প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও সবুজের ছোঁয়া দেওয়ার জন্য অনেকেই ইনডোর গাছের প্রতি আকৃষ্ট হন। বসার ঘর, শোবার ঘর অথবা বারান্দার এক কোণে সহজেই এসব গাছ স্থাপন করা সম্ভব। কিছু গাছ ঘরের বাতাসে থাকা নির্দিষ্ট দূষক শোষণ করতে পারে, এমন তথ্য গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে সাধারণ ঘরের পরিবেশে গাছ রাখার মাধ্যমে বাতাসের বিশুদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর কোনো প্রমাণ নেই। ঘরের বাতাসের মান উন্নত রাখতে নিয়মিত জানালা খোলা রাখা এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সহজ পরিচর্যার জন্য উপযোগী ১০টি ইনডোর গাছের পরিচিতি নিচে তুলে ধরা হলো—
১. স্নেক প্ল্যান্ট
স্নেক প্ল্যান্ট বা মাদার-ইন-লজ টাং কম আলোতেও টিকে থাকতে পারে। এর পাতাগুলো লম্বা ও খাড়া। পরিচর্যার জন্য বেশি পানি প্রয়োজন হয় না। রাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ ও অক্সিজেন ছাড়ার কারণে অনেকেই শোবার ঘরে এ গাছ রাখতে পছন্দ করেন।
২. স্পাইডার প্ল্যান্ট
নতুন গাছপ্রেমীদের জন্য স্পাইডার প্ল্যান্ট একটি ভালো পছন্দ হতে পারে, কারণ এটি সহজে বেড়ে ওঠে। এর সরু ও বাঁকানো পাতার পাশে ছোট ছোট নতুন চারা জন্মায়। মাঝারি আলোতে এটি ভালো থাকে এবং নিয়মিত অল্প পানি দিলেই বেড়ে ওঠে। সাধারণত পোষা প্রাণীদের জন্যও এটি তুলনামূলক নিরাপদ।
৩. পিস লিলি
সাদা ফুল ও গাঢ় সবুজ পাতার জন্য পিস লিলি বেশ পরিচিত। সরাসরি রোদ নয়, এমন আলো এবং আর্দ্র পরিবেশে এ গাছ ভালো জন্মায়। মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিতে হয়। তবে গাছটির পাতা বা ফুল খেলে পোষা প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে।
৪. অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী একটি পরিচিত ভেষজ উদ্ভিদ। এর পাতার ভেতরে থাকা জেল ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হয়। উজ্জ্বল পরোক্ষ আলোতে এ গাছ ভালো থাকে। মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিলেই চলে। অতিরিক্ত পানি দিলে গাছের শিকড় নষ্ট হতে পারে। তবে পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখা উচিত।
৫. অ্যারেকা পাম
ঘরের সাজসজ্জায় সবুজের আবহ তৈরি করতে অ্যারেকা পাম বেশ জনপ্রিয়। এর পাতাগুলো পালকের মতো ছড়ানো। উজ্জ্বল পরোক্ষ আলোতে ভালো জন্মে এবং আশপাশের বাতাসে আর্দ্রতা বাড়াতে সহায়তা করে। বসার ঘরের এক কোণে বড় টবে এই গাছ রাখা যেতে পারে।
৬. রাবার প্ল্যান্ট
বড় ও চকচকে পাতার কারণে রাবার প্ল্যান্ট ঘরের সাজে আলাদা সৌন্দর্য যোগ করে। উজ্জ্বল পরোক্ষ আলোতে এটি ভালো জন্মে। মাটি কিছুটা শুকিয়ে এলে পানি দিতে হয়। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছটি বেশ বড় হয়ে ওঠে। তবে এর কষ ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে এবং পোষা প্রাণীর জন্যও ক্ষতিকর।
৭. বোস্টন ফার্ন
ঘরের আর্দ্র পরিবেশে বোস্টন ফার্ন ভালো জন্মায়। এর ঘন ও নরম পাতা ঘরের সাজে স্নিগ্ধতা আনে। সরাসরি রোদ এড়িয়ে পরোক্ষ আলোতে রাখতে হয়। মাটি সব সময় হালকা আর্দ্র রাখা প্রয়োজন। বাথরুমের মতো আর্দ্র জায়গায় এ গাছ ভালো থাকতে পারে।
৮. ইংলিশ আইভি
ঝুলন্ত টব কিংবা উঁচু তাক সাজাতে ইংলিশ আইভি ব্যবহার করা যেতে পারে। এর লতানো ডাল ও সবুজ পাতা ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। মাঝারি আলো এবং পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত মাটিতে এটি ভালো জন্মায়। মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিতে হয়। তবে গাছটির পাতা খেলে পোষা প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে।
৯. গোল্ডেন পথোস
হৃদয়াকৃতির পাতা ও লতানো ডালের জন্য গোল্ডেন পথোস বেশ জনপ্রিয়। কম আলোতেও টিকে থাকতে পারে বলে এটি ঘরের বিভিন্ন জায়গায় রাখা যায়। খুব বেশি পানি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ঝুলন্ত টব কিংবা তাকের ওপর রাখলে এর লতানো ডাল নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এটি পোষা প্রাণীর জন্য বিষাক্ত।
১০. জেডজেড প্ল্যান্ট
গাঢ় সবুজ ও চকচকে পাতার জেডজেড প্ল্যান্ট কম আলোতেও ভালো থাকতে পারে। নিয়মিত পানি দেওয়ার প্রয়োজন কম, তাই এটি ব্যস্ত মানুষের জন্য পরিচর্যা করা সহজ। মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিতে হয়। তবে এ গাছের অংশ খেলে পোষা প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে।
ইনডোর গাছ ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার অনুভূতি প্রদান করে। তবে ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে শুধুমাত্র গাছের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন