প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রুটিন ট্রেইনিংয়ের একটি সাধারণ দিন যে কারো জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে, তা প্রমাণ করলেন নিউ ইয়র্ক সিটির ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এফডিএনওয়াই) এক শিক্ষানবিশ ফায়ারফাইটার। সহকর্মীদের সহযোগিতায় এক উদ্ধার অভিযানের মহড়াকেই তিনি সিনেমার মতো এক রোমান্টিক বিয়ের প্রস্তাবে পরিণত করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের বরাতে সম্প্রতি এই চমৎকার খবরটি প্রকাশ করেছে এনডিটিভি।
এই ঘটনার প্রকৃতি ছিল র্যান্ডালস আইল্যান্ড ফায়ার একাডেমিতে এফডিএনওয়াই-এর বার্ষিক ‘ফ্যামিলি ডে’ অনুষ্ঠানে। এই বিশেষ দিনে শিক্ষানবিশ ফায়ারফাইটাররা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের আমন্ত্রিত করেন, যাতে তারা তাদের গ্র্যাজুয়েশনের আগে জীবন বাঁচানোর কঠিন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা সশরীরে দেখতে পারেন।
জেসন রালফ নামে ওই শিক্ষানবিশ ফায়ারফাইটার এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে তার প্রেমিকা ডেজিয়া মুরকে চমকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এখন ধরা যাক, ডেজিয়াকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন তিনি শুধু একটি উদ্ধার অভিযানের মহড়ার জন্য সাধারণ একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডেজিয়াকে একটি ভবনের জানালার কার্নিশে বসিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে তাকে একটি নকল আগুন থেকে ‘উদ্ধার’ করা যায়। ডেজিয়া যখন জানালার পাশে গ্রহণযোগে অপেক্ষা করছিলেন, তখন জেসন পুরো ফায়ারফাইটিং গিয়ার ও ভারী পোশাক পরে নিরাপত্তার জন্য ভবনের ছাদ থেকে দড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসেন।
প্রেমিকাকে নকল আগুন থেকে সুরক্ষিতভাবে ‘উদ্ধার’ করার পর জেসন আসল চমকটি দেন। উদ্ধার কাজ শেষ করে তিনি সবার সামনে এক হাঁটু গেঁড়ে বসেন এবং পকেট থেকে আংটি বের করেন। ঠিক সেই সময়ে পাশে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য ফায়ারফাইটাররা বড় বড় অক্ষরে লেখা প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন, যাতে লেখা ছিল— ‘Marry me’ (আমাকে বিয়ে করবে?)।
প্রেমিকের এমন অভিনব ও সাহসী প্রস্তাব দেখে ডেজিয়া আর ‘না’ করতে পারেননি। তিনি সানন্দে জেসনের প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ বলে সম্মতি জানান।
এই মিষ্টি মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ শেয়ার করেছে ফায়ার ডিপার্টমেন্ট। তারা ক্যাপশনে লেখে, ‘শিক্ষানবিশ ফায়ারফাইটার জেসন রালফ গত শনিবার ফ্যামিলি ডে-তে এক হাঁটু গেঁড়ে বসে ছিলেন। এর জন্য ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সবাই একযোগে কাজ করেছিল। তার বর্তমান বাগদত্তা ডেজিয়া মুর ‘হ্যাঁ’ বলেছেন! অভিনন্দন, প্রোপি (শিক্ষানবিশ)!’
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ইন্টারনেটে শুভেচ্ছার বন্যা শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘যখন ভালোবাসার ‘স্ফুলিঙ্গ’ উড়ে! অভিনন্দন আপনাদের!’ অন্য একজন লিখেছেন, ‘শিক্ষানবিশদের কি একটুও মজা করার অধিকার নেই? দারুণ মিষ্টি একটা মুহূর্ত!’
পেশাদার জীবনের কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রশিক্ষণের মাঝেও ভালোবাসার এমন প্রকাশ ফায়ার একাডেমির ‘ফ্যামিলি ডে’-কে উপস্থিত সবার কাছে এক অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে স্মরণীয় করে রেখেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন