প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাগেরহাটের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকনের জীবন সংগ্রামের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু করেছে। বাবার দাফন করার পর রাতে এটিএম বুথে তার ডিউটি এবং পরদিন সকালে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনা অনেকের হৃদয়ে ছুঁয়েছে। তবে ভাইরাল হওয়ার পর তার জীবন সংগ্রাম সম্পর্কে উঠে এসেছে অন্যান্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
ইকনের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে এবং মামার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইকন শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা সহকর্মীরা কখনোই পরীক্ষার আগের রাতে তাকে ডিউটি করতে বাধ্য করেননি। বরঞ্চ তিনি নিজের ইচ্ছায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বুথের শান্ত পরিবেশে বসে পরীক্ষার প্রস্তুতির কাজ চালিয়ে গেছেন।
জানা গেছে, পরিবারের চরম আর্থিক সংকটের কারণে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার বই পর্যন্ত কিনতে পারেননি ইকন। শুরুতে মোবাইল ফোনে পিডিএফ ডাউনলোড করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পরবর্তীতে এক সহপাঠীর কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি প্রস্তুতি করছিলেন।
ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন। বড় ভাই একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং সংসারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে ইকনের কাঁধে। পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করে তিনি পরিবারের ব্যয়ভার বহন করে আসছিলেন।
এরইমধ্যে বাবার মৃত্যু তার জীবনে নতুন সংকট তৈরি করেছে। কিন্তু এই তরুণ এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ভেঙে পড়েননি। তিনি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে পরীক্ষার প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছেন। পরিবার ও স্বজনরা জানান, ইকনের ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল একজন জজ অথবা ব্যারিস্টার হওয়ার। অর্থনৈতিক সংকট এবং পারিবারিক দুর্ভোগও তার সেই স্বপ্নকে ম্লান করতে পারেনি।
স্থানীয়দের মতে, ইকনের এই সংগ্রাম কেবল একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গল্প নয়; এটি হাজারো সংগ্রামী শিক্ষার্থীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। তারা বলেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদানকারী সংস্থাগুলো এগিয়ে এলে ইকনের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে।
স্থানীয়রা ইকনের উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন