প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার হুমকির প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরাক। বাগদাদ, নাজাফ, এরবিল ও সুলাইমানিয়াহ বিমানবন্দরে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট এবং গ্রাউন্ড সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাব বাগদাদকে আরও চাপে ফেলেছে।
ইরানপন্থি ইরাকি রাজনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের আহ্বানে সাড়া দেওয়া হয়নি। মার্কিন চাপ উপেক্ষা করার ফলে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে, এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে ইরাকের।
ইরাকের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে গভীর বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দেশটির সংসদে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর শক্তিশালী অবস্থানও রয়েছে। খাদ্য ও বিভিন্ন পণ্য আমদানির পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইরানের গ্যাসের ওপর ইরাকের বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে।
ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে গ্রাউন্ড সার্ভিস, জ্বালানি, অবতরণ ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান করলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই কারণে ইরাকের বিমানবন্দরগুলোতে ইরানি উড়োজাহাজের সেবা বন্ধ করা হয়েছে। ফলে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরাকের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হচ্ছে তেল। দেশটির সরকারি আয়ের প্রায় ৮৮ শতাংশ তেল খাত থেকে আসে। কিন্তু আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় তেল পরিবহনেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ হওয়া ছাড়াও তেল রপ্তানিতে বাধা এবং জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি ইরাকের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ—এই দুই চাপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা বাগদাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন