প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাদক নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা থাকলেও মাঠপর্যায়ে অভিযান ও কার্যক্রমের দৃশ্যমানতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁদের অনেকে। তবে মাদকবিরোধী অভিযান বন্ধ রয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন সম্প্রতি বিএনপির একাধিক দলীয় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, “বাকেরগঞ্জে কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
ওসির এমন ঘোষণার পর মাদকবিরোধী কার্যক্রমের বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে আরও দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এর আগে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপাশা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারের অভিযোগে এক নারীকে আটক করে পুলিশ। পরে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়ার সময় পুলিশ হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ওই নারীর মৃত্যুর কারণ, ঘটনার পরিস্থিতি এবং পরবর্তী সময়ে পুলিশের অভিযানে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান তেমন চোখে পড়ছে না। তবে এ বিষয়ে পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানসংক্রান্ত তথ্য না পাওয়ায় অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদক নির্মূলে শুধু ঘোষণা নয়, প্রয়োজন নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ। একই সঙ্গে মাদকের উৎস শনাক্ত করে সরবরাহব্যবস্থা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের দাবি, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে মাদকবিরোধী তৎপরতা জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও বাড়ানো প্রয়োজন।
মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও অগ্রগতির তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের অনেকে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেনের বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযানের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন