প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পূর্ব চীনের এক ব্যক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন, কারণ তিনি অভিযোগ করেছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট ভুল পরামর্শ দিয়েছে। ঝেজিয়াং প্রদেশের জিয়াশান কাউন্টির বাসিন্দা শি তাঁর মায়ের দাফনের তারিখ নির্ধারণের জন্য এই চ্যাটবটের পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের পর তাঁর পরিবারে একের পর এক অমঙ্গল ও দুর্ভাগ্য নেমে এসেছে। গত এপ্রিল মাসে শি’র মা হঠাৎ মারা যাওয়ার পর, তিনি শেষকৃত্যের তারিখের জন্য এআইয়ের শরণাপন্ন হন।
জিমু নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি ৫ ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। তিনি তাঁর মায়ের দাফনের জন্য একটি শুভ দিন বেছে নিতে চেয়েছিলেন। চীনা ঐতিহ্য অনুযায়ী, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি প্রাচীন পঞ্জিকা দেখে এমন শুভ দিন নির্বাচন করা হয়, যা এখনও অনেক পরিবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মেনে চলে। দাফনের জন্য শি এবং তাঁর পরিবার প্রথমে একজন ফেং শুই (চীনা বাস্তুশাস্ত) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেন, যিনি ২০ এপ্রিল তারিখটি সুপারিশ করেছিলেন। তবে শি লক্ষ্য করেন যে দিনটি তাঁর মায়ের মৃত্যুর চতুর্থ দিন পড়ছে, যা নিয়ে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। কিছু স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী, শেষকৃত্যের জন্য জোড় সংখ্যার দিনগুলোকে অপয়া বা অশুভ মনে করা হয়।
বিকল্প মতামতের খোঁজে শি তখন একটি এআই চ্যাটবটের শরণাপন্ন হন। চ্যাটবটটি ১৯ এপ্রিল তারিখটি সুপারিশ করে এবং শেষকৃত্যের শোভাযাত্রার আগে কাগজের ঘোড়া ও কাগজের টাকা পোড়ানোর পরামর্শ দেয়। প্রথাগত বিশ্বাস অনুযায়ী, এতে পরলোকে মৃত ব্যক্তির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংস্থান হয়।
তবে পরবর্তীতে চ্যাটবটের পরামর্শে কিছু অসংগতি শি-র চোখে পড়ে। চ্যাটবটটি দাফনের সময় সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে রাখার সুপারিশ করলেও, আবার অন্য জায়গায় উল্লেখ করে যে ১৯ এপ্রিল দিনটি শুভ নয়। কিন্তু ততক্ষণে শি আত্মীয়স্বজনকে শেষকৃত্যের সময়সূচি জানিয়ে দিয়েছিলেন এবং তারিখ পরিবর্তন করার মতো সময় আর ছিল না।
শেষকৃত্যের কিছুদিন পরেই তাঁর এক আত্মীয় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময়টি প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের কিছু সদস্য এই দুর্ঘটনাকে দাফনের তারিখের সাথে মেলাতে শুরু করেন। তাঁদের বিশ্বাস, শেষকৃত্যের এই ত্রুটিপূর্ণ আয়োজনের কারণে পরিবারের 'ফেং শুই' নষ্ট হয়েছে এবং তা দুর্ভাগ্য ডেকে এনেছে।
চাকরির চুক্তিপত্র গোছানোর মতো কাজে নিয়মিত এআই ব্যবহার করা শি জানান, চ্যাটবটটি তাঁকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই ঘটনাটি তাঁর পরিবারের মধ্যে মানসিক দূরত্ব ও উত্তেজনাও বাড়িয়ে দিয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শি শেষ পর্যন্ত সফটওয়্যারটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'বেইজিং চুনতিয়ান ঝিইউন টেকনোলজি'-র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তবে ক্ষতিপূরণের অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
মজার ব্যাপার হলো, নিজের মামলার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্যও শি সেই একই এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেছেন। জানা গেছে, সফ্টওয়্যারটি তাঁকে আইনি নথিপত্রের খসড়া তৈরি করতে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াগুলো বুঝতে সাহায্য করেছে।
কোম্পানিটির সেবামূলক শর্তাবলিতে বলা আছে যে, এআই-উৎপাদিত তথ্য কেবল রেফারেন্স বা সূত্র হিসেবে দেওয়া হয় এবং এটিকে পেশাদার পরামর্শ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। ব্যবহারকারীরা সফ্টওয়্যারটি ব্যবহারের সময়ই এই শর্তাবলিতে সম্মতি দিয়ে থাকেন। স্থানীয় একটি আদালতে মামলাটির শুনানি হয়েছে এবং বর্তমানে এটি বিচারাধীন রয়েছে।
কোম্পানিটি যুক্তি দিয়েছে যে, চ্যাটবটের দেওয়া উত্তর কোনোভাবেই অনলাইন আইন লঙ্ঘন করে না। তবে শি ব্যবহারকারী চুক্তির শর্তা বলীকে চ্যালেঞ্জ করে দাবি করেছেন যে, এই শর্তগুলো ব্যবহারকারীদের ওপর অতিরিক্ত দায় চাপিয়ে দেয়, পর্যাপ্ত সতর্কতা প্রদান করে না এবং এআই-এর উত্তরের উৎসগুলো যাচাই করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ব্যবস্থার অভাব রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন