প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অনলাইনে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের পরিকল্পনা প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ এবং বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব নিয়ে শিশু অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষাকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র আপত্তি দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইইউর ২৭টি দেশের জোট কিভাবে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করতে চায়, সে পরিকল্পনা আগামী সপ্তাহে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে একটি বহুল প্রত্যাশিত ভাষণে তুলে ধরবেন ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ডন ডার লেয়েন।
ভন ডার লেয়েন ১৩ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল এই বয়সসীমার সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে, ফ্রান্স ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তুলেছে।
ডেনমার্ক ও গ্রিসসহ ইইউর বেশ কয়েকটি দেশ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এ বিষয়ে চাপ দিয়ে আসছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিশ্বের প্রথম বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা চালুর পর ইইউর এই উদ্যোগ আরও জোরালো হয়েছে।
ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশও অস্ট্রেলিয়ার পথ অনুসরণ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচকেরা বলছেন, শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর এসব প্ল্যাটফর্মের নেতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ ক্রমেই বাড়ছে।
ইইউ যে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করুক না কেন, তা কার্যকর করার জন্য এ বছরের শেষ দিকে বয়স যাচাইয়ের একটি ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তবে এ পরিকল্পনা নিয়ে ব্রাসেলসকে বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। শিশু অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ অপ্রাপ্তবয়স্কদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। অন্যদিকে, ডিজিটাল অধিকার সংগঠনগুলো বয়স যাচাই ব্যবস্থা নিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড টেকনোলজি (সিডিটি) ইউরোপের কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান সিরহিগিরি বলেন, “শিশুদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য হওয়া উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো, শিশুদের অনলাইনে অংশগ্রহণের সুযোগ নয়।”
“প্ল্যাটফর্মগুলোর পরিবর্তন হওয়া উচিত”
শিশু অধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
তাদের যুক্তি, এ ধরনের বিধিনিষেধ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ এবং তাদের বিকাশে সহায়ক বিভিন্ন তথ্য ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে পারে।
সিরহিগিরি এএফপিকে বলেন, এ ধরনের বিধিনিষেধ শিশুদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং তথ্য পাওয়ার অধিকার লঙ্ঘন করবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সনদেও এসব অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
শিশু অধিকার ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা প্রায় ১৩২টি সংগঠন ও বিশেষজ্ঞও সবার জন্য একক নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছেন।
এএফপির হাতে আসা ডন ডার লেয়েনকে দেওয়া এক চিঠিতে তারা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্ম আরও নিরাপদ করতে বাধ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন।
২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার ব্যাপক সমর্থন থাকলেও এ বিষয়ে সবাই একমত নয়।
এস্তোনিয়ার ডিজিটালবিষয়ক মন্ত্রী লিসা-লি পাকোস্তা এএফপিকে বলেন, “তথ্য পাওয়ার অধিকার কেন নিষিদ্ধ করা হবে, তা নৈতিকভাবে বোঝা খুব কঠিন।”
তার মতে, “বরং প্ল্যাটফর্মগুলোর পরিবর্তন হওয়া উচিত।”
ইইউ ইতোমধ্যে অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ প্রয়োগ করেছে।
এই আইনের আওতায় চলতি বছর ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটককে ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে তুলতে পারে—এমন ডিজাইন বা ফিচার পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ইডিআরআইয়ের কর্মকর্তা সিমিওন দে ব্রাওয়ার মনে করেন, মূল সমস্যা তরুণদের অনলাইনে থাকা নয়, বরং অনলাইন পরিবেশকে নিরাপদ করতে ব্যর্থতা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন