প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ দুই বছরের সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজ শেষে থাইল্যান্ডের প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক কুদি চোপা মসজিদ পুনরায় উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ মুসলিম নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজের পর, এবার থাইল্যান্ডে অবস্থানরত প্রাচীন কুদি চোপা মসজিদটিকে পুনরায় উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন দেশটির শীর্ষ মুসলিম নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তারা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
থাইল্যান্ডের প্রা নাখোন সি আয়ুত্থায়া প্রদেশে অবস্থিত কুদি চোপা মসজিদ, দেশের অন্যতম প্রাচীন ইসলামী স্থাপনা বলে গণ্য করা হয়। ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, মসজিদটির বয়স ৬০০ বছরেরও অধিক। এটি প্রাচীন সিয়াম রাজ্যের রাজধানী আয়ুত্থায়া নগরীর ইসলামী ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবেও পরিচিত। কুদি চোপা মসজিদ থাইল্যান্ডে মুসলমানদের দীর্ঘকালীন উপস্থিতির জীবন্ত সাক্ষ্য বহন করে।
প্রতিনিধিদের দ্বারা প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, কুদি চোপা মসজিদটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়; এটি থাইল্যান্ডের বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং সভ্যতার বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, এই মসজিদ স্থানীয় মুসলিম সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে আসছে।
থাই গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের কিংবদন্তি রাজা চুলালংকর্ন (রামা পঞ্চম) মসজিদটির নামকরণ করেছেন। এ মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের অবদান ও মর্যাদার স্বীকৃতি প্রতিফলিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সংস্কার প্রকল্পের সময় মসজিদের ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী ও মূল বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে এটি একদিকে যেমন আধুনিক ব্যবহারের উপযোগী হয়েছে, অন্যদিকে পূর্বের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য গুলোও সংরক্ষিত হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন থাইল্যান্ডের শেখ আল-ইসলাম শেখ আরুন বুনচোম। অনুষ্ঠানে দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রীসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, ইসলামী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা উল্লেখ করেছেন, কুদি চোপা মসজিদের পুনরুজ্জীবন কেবল একটি ঐতিহাসিক স্থাপনার সংস্কার নয়, বরং এটি থাইল্যান্ডের বহুধর্মীয় ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি সংরক্ষণের কাজে রাষ্ট্র ও জনগণের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
বিশ্লেষকদের মতে, কুদি চোপা মসজিদের পুনরায় উদ্বোধন এতে থাইল্যান্ডে ইসলামের সুদীর্ঘ ইতিহাসকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে এবং এটি আগামী প্রজন্মের কাছে দেশের সমৃদ্ধ ইসলামী ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন