প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চান্দেরচর বাজার থেকে ডিগ্রির চর এলাকায় যেতে নির্মাণাধীন ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুর কাজ জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতায় গত প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এই কারণে এলাকাটির হাজারো মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিকেরা ২০২৪ সালের আগস্টের পর কাজ বন্ধ করে দেন, যা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
এখন পর্যন্ত সেতুর কাজের কোনো সুরাহা না হওয়ায় এটি বন্ধ রয়েছে। সেতু নির্মাণের সময় চলাচলের জন্য পাশের খালটি ভরাট করে একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেতু না থাকায় স্থানীয়রা ওই সড়ক দিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টির সময় বিকল্প সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং বর্ষায় পানিতে ডুবে যায়। দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। স্থানীয়রা আশা করেছিলো সেতুটি দ্রুত নির্মিত হবে, কিন্তু এখন এটি তাদের জন্য একটি গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এলজিইডি ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। এর কাজ ২০২৫ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। শিবচরের আরও তিনটি সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হলেও সেগুলো সময়মতো শেষ হয়েছে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এই সেতুর কাজ বন্ধ রয়েছে, ফলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।
এই সেতু দিয়ে উমেদপুর ইউনিয়নের চান্দেরচর বাজারসহ শিবচরের সঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা এবং সাপ্তাহিক চান্দেরহাটে মালামাল নিয়ে আসা-যাওয়ার জন্য হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে। সেতুর পাশের অস্থায়ী সড়ক দিয়ে যাতায়াতে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায়ই।
নিয়মিত যাতায়াতকারী স্থানীয় মো. জামিল তোতা মিয়া জানান, "এখানে আগে একটা ব্রিজ ছিল। ওইটা ভাইঙ্গা আবার নতুন কইরা ব্রিজের কাজ শুরু হয়। ব্রিজের চান্দেরচর বাজার প্রান্তে একজনের জায়গা। তার বিল্ডিং। ব্রিজ করতে হলে ওইটা ভাঙতে হবে। জমির মালিক টাকা না পাইয়া মামলা দিছে। এরপর থেকে কাজ বন্ধ। আর আমরা পড়ছি ভোগান্তিতে।"
ভ্যানচালক লিটন ঢালী বলেন, "ব্রিজের কাজ অর্ধেক হওয়ার পর থেকে বন্ধ। ২০২৪ সালের সরকার পরিবর্তনের পর জমির মালিক বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পাশে যে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, এখান দিয়ে চলাচলে ভীষণ সমস্যা হয়। অনেকবার ভ্যানগাড়ি উল্টে গেছে। যাত্রীরা আহত হয় প্রায়ই।"
স্থানীয় ওয়াসিম বেপারী জানান, "ব্রিজের পরেই চান্দেরচর বাজার। সপ্তাহে হাট বসে। ব্রিজের কাজ না হওয়ায় লোকজনের মালামাল নিয়ে আসা-যাওয়া করতে কষ্ট হয়। বৃষ্টির দিনে দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রায় আড়াই বছর ধরে কাজ বন্ধ। সব মিলিয়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে মানুষের ভোগান্তি। অথচ দেখার কেউ নাই!"
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মাদারীপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী হায়দার খান জানান, "ওই স্থানে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত একটি জটিলতা রয়েছে। এর কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত সমাধান হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন