প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছেন। এই প্রেক্ষাপটে পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
সিলভিয়া যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতিবিষয়ক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সামরিক বাহিনীতে এই পদটি ‘জে৫’ নামে পরিচিত। গত অক্টোবরে তার পূর্বসূরি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোসেফ ম্যাকগিকেও অবসরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল।
সিলভিয়াকে অপসারণের কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে এখনো কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
জয়েন্ট স্টাফের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ৩২ বছর সেবা দেওয়ার জন্য সিলভিয়া এবং তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। সাধারণত, ‘জে৫’ বিভাগের প্রধান এবং তার কর্মীরা জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করেন।
ট্রাম্প যখন ইরানে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তখন সিলভিয়াকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে তার অপসারণের সঙ্গে ইরানবিষয়ক পরিকল্পনার কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পরিষ্কার নয়।
ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আট মাস পর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন হামলা চালানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই কূটনীতিক জানিয়েছেন, মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ও আঞ্চলিক মিত্রকে সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে, ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি ও কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে।
জয়েন্ট স্টাফে যোগ দেওয়ার আগে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়া কেনটাকির ফোর্ট ক্যাম্পবেলে ১০১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন। এর আগে তিনি জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতিবিষয়ক বিভাগের (জে৫) উপপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দায়িত্বকালে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে প্রায় দুই ডজন জেনারেল, অ্যাডমিরাল ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে, অবসরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে অথবা অন্যভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকর্তাকে সরানোর কারণ সম্পর্কে পেন্টাগন প্রকাশ্যে তেমন কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর কয়েকজন বেসামরিক সচিব এবং সামরিক বাহিনীর একাধিক শীর্ষ ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তাও রয়েছেন। এ বিষয়ে বুধবার গভীর রাতে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
গত মাসে, হেগসেথ জানান, সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সংখ্যা ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে এই লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ফ্ল্যাগ অফিসার ও জেনারেল পদমর্যাদার প্রায় ৮০০টি পদ রয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর, মেরিন কোরের কোয়ান্টিকো ঘাঁটিতে জুনিয়র কর্মকর্তা ও তালিকাভুক্ত সামরিক সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি একে জবাবদিহি বলছি, যা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।’ তবে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সংখ্যা কমানোর উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য।
তাদের মতে, এটি একধরনের ‘শুদ্ধি অভিযান’। এর ফলে সামরিক বাহিনীর যে ক্ষতি হবে, তা কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর মার্ক কেলিও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নৌবাহিনীর সাবেক এই যুদ্ধবিমানচালক হেগসেথের সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
গত মাসে তিনি বলেন, ‘সামরিক নেতৃত্বের প্রতি তার (হেগসেথের) গভীর ক্ষোভ রয়েছে। তিনি সামরিক বাহিনীর এক প্রজন্মের সেরা নেতাদের সরিয়ে দিচ্ছেন। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পুরো একটি প্রজন্মের সময় লেগে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন