প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আমতলী উপজেলা মহিলা বিএনপির স্বঘোষিত নারী নেত্রী মাহমুদা আক্তার হেপী এবং চাওড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মোঃ জুয়েল হাওলাদারের গ্রেপ্তার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। রবিবার বিকালে তালুকদার বাজারে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভে চাওড়া ইউনিয়নের সহস্রাধিক নারী ও পুরুষ অংশ নেয়। তারা পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবী জানিয়েছে দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের。
জানাগেছে, মাহমুদা আক্তার হেপী আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আলতাফ হাওলাদারের কন্যা। শেখ হাসিনার পতনের পরপরই তিনি উপজেলা মহিলা বিএনপির স্বঘোষিত নারী নেত্রী হন। এরপর তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব তার চাচা মোঃ জুয়েল হাওলাদারের নেতৃত্বে একটি বাহিনী গড়ে তুলেন। ওই বাহিনী এলাকায় জমি দখল, শালিস বানিজ্য এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিবাদ করলেই তিনি এলাকার মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ঝড়তে ভয়ঙ্কর হয়রানি করেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হেপীর নেতৃত্বে দেলোয়ার হাওলাদারের জমি দখলের উদ্দেশ্যে যায় জুয়েল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী।
বাধা দিলে তারা দেলোয়ার হাওলাদার, কোমেলা বিধি ও সোহেল হাওলাদারকে পিটিয়ে জখম করে। তারা যখন আমতলী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যায় তখন তাদেরকে দ্বিতীয় দফায় মারধর করে এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে দেয়নি নারী নেত্রী হেপী আক্তার, এমন অভিযোগ করেন দেলোয়ার হাওলাদার। পরে তারা পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ঘটনার পর দেলোয়ারের বোন রিনা বেগম বাদী হয়ে শুক্রবার দুপুরে হত্যা চেষ্টা ও জমি জখল আইনে জুয়েল হাওলাদার এবং নারী নেত্রী হেপী আক্তার সহ ১৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের খবর পাওয়ার পর ওইদিন বিকালে হেপীর নেতৃত্বে জুয়েল হাওলাদারের সন্ত্রাসী বাহিনী দেলোয়ার হাওলাদারের বাড়ীতে হামলা ও লুটপাট করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা একাধিক ঘটনার মাধ্যমে অত্যাচার করেছে। রবিবার বিকেলে চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা এলাকাবাসী তাদের গ্রেপ্তার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। আবু হানিফ মিয়ার সভাপতিত্বে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চাঁন মিয়া মল্লিক, সজিব মল্লিক, শিউলী আক্তার ও শাহনাজ পারভীন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বঘোষিত নারী নেত্রী মাহমুদা আক্তার হেপী ছিলেন আওয়ামী লীগের দোসর। তিনি শেখ হাসিনার পতনের পরে রাতারাতি বিএনপি নেত্রী হয়ে যান। তিনি তার চাচা জুয়েল হাওলাদারের মাধ্যমে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করেন। এই চাচা ও ভাতিজি মিলে এলাকায় জমি দখল, শালিস বানিজ্য, সুদের কারবার এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তাদের যে অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, তাদের ওপর নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার খড়গ নেমে আসে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে, এমন দাবি তুলেছে এলাকাবাসী।
আমতলী উপজেলা মহিলা বিএনপির সভানেত্রী মীরা খান জানান, মাহমুদা আক্তার হেপী মহিলা বিএনপির কেউ নন। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন। তিনি শেখ হাসিনার পতনের পর রাতারাতি মহিলা বিএনপির নেত্রী দাবি করেন এবং থানায় দালালি, জমি দখল ও শালিস বানিজ্যসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। তার এসব অপকর্মের দায়ভার দল নিবে না।
মাহমুদা আক্তার হেপির মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং ফোন বন্ধ করে দেন। আমতলী থানার ওসি মোঃ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, একটি ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনজন আসামী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন