প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত ও রাশিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। একই সঙ্গে, দুই দেশ জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষ করে ভারতের কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রাশিয়ার কাজ অগ্রগতি লাভ করছে। এছাড়া, রাশিয়ায় দক্ষ ভারতীয় কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ দ্রুত বাড়ছে।
রাশিয়ায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার বুধবার এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তিনি জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট যৌথভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের লক্ষ্যে কাজ করছে।
সেই লক্ষ্যে উভয় দেশ কার্যকরীভাবে কাজ করে চলেছে। রাষ্ট্রদূত এই প্রসঙ্গে জানান, বর্তমানে যেসব খাতে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, নতুন নতুন খাতে সহযোগিতার সুযোগ খুঁজে দেখা হচ্ছে, যাতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হয়।
বিনয় কুমার আরও বলেছেন, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বে জ্বালানি সহযোগিতা এখনো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তিনি তথ্য জানিয়েছেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক সংস্থা রোসআতোম ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের নির্মাণকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে। ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেছেন।
রাষ্ট্রদূত আরো জানান, গত কয়েক বছরে রাশিয়ায় ভারতীয় দক্ষ কর্মীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে ভারতীয় পেশাজীবীদের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেছেন, দুই থেকে তিন বছর আগে রাশিয়ায় ভারতীয় কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার ছিল। বর্তমানে, এই সংখ্যা বেড়ে এক লাখেরও বেশি হয়েছে। বিনয় কুমার বলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকারি বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা কমিশনের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে দুই দেশের চলমান সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি, নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হবে।
রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে এসেছে। ২০২৬ সালে ব্রিকসের চেয়ার দেশ হিসেবে ভারত আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে এই সম্মেলন আয়োজন করবে। সম্মেলনে অংশ নিতে ভারত রাশিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সব ধরনের প্রস্তুতি দ্রুত গতিতে চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন