প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশব্যাপী মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালেই ভোলার চরফ্যাশনে রাতের আঁধারে ইলিশ আহরণ ও পাচারের এক বড় চেষ্টা নস্যাৎ করেছে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা। উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের খেজুরগাছিয়া পর্যটন স্পট (মাঝঘাট) এলাকায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের বরফসহ দুটি কাভার্ড ভ্যান, দুটি ফিশিং বোট ও জাল আটক করা হয়েছে।এরা হলেন শাহাদাত পিতা খালেক বেপারি সাং হাজারিগন্জ ৭নংওয়াড, শাকিল পিতা মোস্তাফিজ সাং হাজারিগন্জ ৭নংওয়াড ,মোহাম্মদ হোসেন পিতা সৈয়দ আহম্মেদ মৃত দৌলতখান থানা ৩ জন মাছ দরতে গিয়ে আটক হয় ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, চরফ্যাশনের বাশির দোন এলাকার বজলু মেম্বার নামক এক ব্যক্তির তত্ত¦াবধানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী থেকে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকার এবং তা দেশের অন্যত্র পাচারের প্রস্তুতি চলছিল। এরই অংশ হিসেবে রাতের আঁধারে যশোর থেকে একটি বড় কারগো ট্রাকে করে লাখ টাকার বিপুল পরিমাণ বরফ আমদানি করা হয়।সোমবার গভীর রাতে উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খেজুরগাছিয়া পর্যটন স্পট এলাকায় বরফ খালাসের সময় স্থানীয় সচেতন জনতার চোখে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে জনতা বরফ বোঝাই ট্রাকটি হাতেনাতে অবরুদ্ধ করে শশীভূষণ থানা পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে শশীভূষণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খলিলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। পুলিশ উপজেলার খেজুরগাছিয়া মাঝঘাট এলাকা থেকে অবৈধভাবে আনা আনুমানিক ৫ লাখ টাকা মূল্যের বরফসহ দুটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করে। একই সঙ্গে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে ঘাটে রাখা সংশ্লিষ্ট আরও দুটি ফিশিং বোট ও জাল আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনার সাথে জড়িত মূল হোতারা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।এদিকে একই রাতে উপজেলার পাঁচকপাট স্লুইসগেট ঘাট সংলগ্ন নদীতে অভিযান চালিয়ে জালসহ আরও দুটি ফিশিং বোট আটকের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘাট সংলগ্ন নদীতে এখনো জাল ও সরঞ্জামসহ বেশ কিছু মাছ ধরার অবৈধ নৌকা ভাসমান অবস্থায় রয়েছে, যা মা ইলিশ রক্ষায় বড় হুমকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে নদীতে ও ঘাটে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে পুলিশ-জনতা কাজ করলেও, চরফ্যাশনের মূল মাছ বাজারগুলোর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে প্রশাসনের তদারকির চরম অভাবকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা ককশিটের বাক্সে লুকিয়ে চড়া দামে মা ইলিশ বিক্রি করছেন। বাজারগুলোতে নিয়মিত টহল বা অভিযান না থাকায় এই চক্রটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে চরফ্যাশনের মাছ বাজারগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং খেজুর গাছিয়া ঘাটে আটককৃত বরফ ও নৌকার সাথে জড়িত বজলু মেম্বারসহ ইলিশ পাচারকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
শশীভূষণ থানা পুলিশ জানিয়েছে, জব্দকৃত বরফ, কাভার্ড ভ্যান ও ফিশিং বোটের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মা ইলিশ রক্ষায় এবং এ ঘটনার সাথে জড়িত মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের এই চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন