প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার ও বৈষম্য দূরীকরণের একটি ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট করছেন, আগামী দিনগুলিতে মাদ্রাসা এবং সাধারণ শিক্ষার কমন বিষয়গুলোতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় শিক্ষামন্ত্রী এই মন্তব্যগুলো করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরো জানান, ‘আইনি জটিলতা কাটিয়ে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জট কেটে যাবে এবং পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আরও ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে।’
তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সিলেবাস ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনের বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা চাই না যে শিক্ষার মধ্যে কোনো বৈষম্য রয়ে যাক। আগামী দিনে মাদ্রাসা এবং সাধারণ শিক্ষার যে সকল বিষয়গুলি কমন (যেমন: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, অ্যাকাউন্টিং, ইকোনমিক্স ও সোসিওলোজি)- এসব বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।’
শিক্ষামন্ত্রী আরো জানান, মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়িত করার উদ্দেশ্যে সেখানেও কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি এডুকেশনসহ পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। এছাড়াও, এবারে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড একযোগে একই প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে, এটি সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ২০১৭ সালের একটি মামলার কারণে সারা দেশের ৬৫ হাজার ৫০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছে। ফলে বহু সহকারী শিক্ষক পদোন্নতি না পেয়েই অবসরে যাচ্ছেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনা এবং ৩০০ বিধিতে আমার বক্তব্যের পর বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে আদালত এই সমস্যার সমাধান করে দেবেন। এতে হলে আগামী তিন মাসের মধ্যে আমরা আরও ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে সক্ষম হচ্ছি।’
শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কর্মরত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ‘অটোমেটেড’ বা স্বয়ংক্রিয় করারও ঘোষণা দেন তিনি।
মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে ও জুন মাসের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে পূর্ববর্তী ব্যবস্থার সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ১০ কোটি টাকার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার প্রজেক্ট ৮০ কোটি টাকায় পৌঁছলেও তা এখনও শেষ হয়নি। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৭ হাজার মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ দিলেও সঠিক ইএফটি ডাটাবেজ না থাকার কারণে বেতনের প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নির্ধারণের পদ্ধতি ভুল ছিল। বর্তমান সরকার এই জটিলতা সমাধানে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ করছে।
জনসংখ্যাকে অভিশাপ হিসেবে না দেখে সম্পদে পরিণত করার তাগিদ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আল্লাহ মানুষের মাঝে মেধার কোন বৈষম্য করেননি। শিক্ষা ও মেধার চর্চা করে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মেলানোর জন্য আমাদের শিশুদের দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী স্কুলগামী শিশুদের জুতো, মোজা, ড্রেস, ব্যাগ, বই এবং মিড-ডে মিল দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এ সময় নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির চর্চাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. শাহজাহান এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন