প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে, ভুয়া সন্তান জন্ম দেয়ার পাশাপাশি স্বামীকে গাড়ি দুর্ঘটনায় হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে চীনা বিনিয়োগকারী ৫২ বছর বয়সি লি পিং-এর স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। এটি রোমাঞ্চকর সিনেমার গল্প মনে হলেও, এটি বাস্তব জীবনের এক অবিশ্বাস্য ঘটনা।
দীর্ঘ ৯ বছরের সময়কাল ধরে প্রায় ১৮ কোটি রুপি (১৩ মিলিয়ন ইউয়ান বা ১.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) খরচ করে, অবশেষে তিনি নিজের প্রতারক সাবেক স্ত্রীকে আইনের সামনে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে লি পিং-এর একটি ১৫ মিনিটের ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে, যা বর্তমানে চীনজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে লি পিং প্রায় ৭ কোটি ইউয়ান (১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয় করেন। ২০১৪ সালে একটি ব্যবসায়িক ফোরামে ঝাং শুদান নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
ঝাং নিজেকে অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা একজন লড়াকু নারী হিসেবে লির কাছে তুলে ধরেন। লির দাবি হলো, ঝাং মূলত তার আর্থিক অবস্থান দেখে পরিকল্পিতভাবে তার জীবনে প্রবেশ করেছিলেন। ঝাংয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে, লি তার ব্যাংকে ২ কোটি ইউয়ান জমা রাখেন এবং ঝাংয়ের পালক বাবা-মায়ের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের অর্থ সাহায্য করতে শুরু করেন। ২০১৫ সালের শুরুতে ঝাং বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং মার্চ মাসে জানান যে তিনি গর্ভবতী। সেই খুশির আবহে, লি তার জন্য শেনঝেনে ৭৫ লাখ ইউয়ানের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দেন। এরপর ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
কিন্তু বিয়ের পরের দিনই ঘটে প্রথম রহস্যজনক ঘটনাটি। লি সড়কপথে শেনঝেন ফেরার সময় তার গাড়ির ব্রেক হঠাৎ বিকল হয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে, লি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
এর কয়েক দিন পর, ব্যাংকের পারফরম্যান্সের উন্নতির অজুহাত দেখিয়ে ঝাং স্বামীর কাছ থেকে প্রায় ২৭ লাখ ইউয়ান হাতিয়ে নেন। এর পরপরই তিনি তার সমস্ত নথিপত্র এবং লির কেনা ৪টি সম্পত্তির মালিকানা দলিল নিয়ে উধাও হয়ে যান। পরে পুলিশ তদন্তে জানতে পারে যে, ঝাং হংকং হয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে পালিয়ে গেছেন।
তদন্তের পর আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। পুলিশ জানতে পারে, লির গাড়ির ব্রেক বিকল হওয়ার পেছনে ঝাং এবং তার এক সহযোগী জড়িয়ে ছিল। লি জানান, ‘সে যদি শুধু টাকা চুরি করত, তাহলে হয়তো এতটা পেছনে না লাগতাম। কিন্তু সে আমার প্রাণনাশের ষড়যন্ত্র করে যাতে আমার সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে।’ তার প্রতারক স্ত্রীর খোঁজে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা করেন লি। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশে তিনি ব্যক্তিগত গোয়েন্দা ও আইনজীবী নিয়োগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের গির্জা, চীনা কমিউনিটি সেন্টার এবং প্রসূতি কেন্দ্রগুলোতেও তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ ৯ বছরের অনুসন্ধান এবং প্রায় ১৮ কোটি রুপি ব্যয়ের পর লস অ্যাঞ্জেলেসে তিনি ঝাং ও তার সন্তানের সন্ধান পান। ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হয় যে, ওই সন্তান লির নয়।
অবশ্য আইনি লড়াইয়ের শুরুতে বিষয়টি খুব সহজ ছিল না। ঝাং তখন এখনও লির আইনি স্ত্রী থাকায় প্রথম দিকে প্রতারণার মামলাটি থমকে যায়। তবে ২০২০ সালে শেনঝেনের একটি আদালত তাদের বিয়ে বাতিল ঘোষণা করে এবং ৪টি সম্পত্তি লি-এর নামে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। অবশেষে ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ঝাং শুদানকে জালিয়াতি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভিসা জালিয়াতি, শিশু অপহরণ ও মানবপাচারের মতো ২৩টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ৬৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। ঝাংকে দেশ থেকে পালাতে সাহায্য করায় তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চীনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান লি পিং।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন