প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে (আইজিসিসি) উদযাপন করা হয়েছে ১১তম আয়ুর্বেদ দিবস, যা ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি একাডেমিক পর্ব, কর্মশালা এবং সাংস্কৃতিক পর্বের সমন্বয়ে সাজানো হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে, ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানের একাডেমিক পর্বটি তথ্যবহুল কর্মশালার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের চারটি ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও আয়ুর্বেদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত কর্মশালায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, জীবনধারা-ভিত্তিক চিকিৎসা (লাইফস্টাইল মেডিসিন) এবং টেকসই স্বাস্থ্য চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ুর্বেদ মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. বাবুল আক্তার এবং নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ মামুন মিয়া। পরে, বাংলাদেশি শিল্পী মিস শাহিন সোবহানা সুরভী পশমের ‘গণপতি ট্যাপেস্ট্রি’ (দেয়ালসজ্জা)-র প্রতীকী উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালক অ্যান মেরি জর্জ উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান এবং এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয়—‘সুস্থ আগামীর জন্য আয়ুর্বেদ’-এর ওপর আলোকপাত করেন। তিনি ভারতের আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন, যা আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা (ন্যাচারোপ্যাথি), ইউনানি, সিদ্ধ এবং হোমিওপ্যাথি পদ্ধতির প্রসারে সহায়তা করে।
এ সময়, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দর্শকদের উদ্দেশ্যে ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান-ব্যবস্থার চিরস্থায়ী গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন, যা সামগ্রিক সুস্থতা ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে সহায়ক।
হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম একাডেমিক ও পেশাগত জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের জনকেন্দ্রিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় ও বাংলা খেয়াল সঙ্গীতশিল্পী এবং সঙ্গীত প্রশিক্ষক রঞ্জন চন্দ্র সরকার হৃদয়স্পর্শী সঙ্গীত পরিবেশন করেন। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও বাংলা সঙ্গীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে তার পরিবেশনা দুই দেশের মধ্যকার গভীর ও অভিন্ন সাংস্কৃতিক বন্ধনকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে।
পরিবেশনকারী শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান এবং সনদ বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে। এতে সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ, হামদর্দ ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, নূর মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজ এবং দ্য আয়ুর্বেদা কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারি আয়ুর্বেদ ও ইউনানি কলেজের অধ্যক্ষ রাশিদুজ্জামান ও সহকারী অধ্যাপক ড. নাজমুল হুদা; ‘প্রাচী’র সদস্যদের প্রতিনিধি হিসেবে ড. মুখলেসুর রহমান; এবং নারায়ণগঞ্জ আর্টস কলেজের অধ্যক্ষ জনাব শামসুল আলম আজাদ।
এছাড়া, অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের আয়ুর্বেদ বিভাগের শিক্ষার্থী, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট অতিথিরাও অংশগ্রহণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন