প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে এক নারী যাত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়টি রোববার (২৫ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আ. ন. ম. ইলিয়াস ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেড়াই গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে বাসচালক মো. আলতাফ (২৫), সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের মো. খোকন মিয়ার ছেলে মো. রাব্বি (২১) এবং ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার মো. চিন্নু মাতাব্বরের ছেলে বাস কন্ডাক্টর সাগর ওরফে সজীব মাতুব্বর (২৪)।
সরকারি কৌশুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু জানান, গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাতে ভুক্তভোগী নারী সাভার যাওয়ার উদ্দেশ্যে ‘সাভার পরিবহন’-এর একটি বাসে ওঠেন। যাত্রার সময় অন্যান্য যাত্রীরা নেমে গেলে বাসটি গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর চালক মো. আলতাফ, কন্ডাক্টর সাগর ওরফে সজীব এবং সহযোগী মো. রাব্বি ও নাছিরের সহায়তায় বাসের ভেতর তাঁকে জোরপূর্বক দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় আসামিরা ভুক্তভোগীর কানের স্বর্ণের দুল, ব্যবহৃত আইফোন ১৩ প্রোক্স মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
পরদিন ১৫ জানুয়ারি দুপুরে বাসটি টাঙ্গাইল সদর থানাধীন করটিয়া বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে ভুক্তভোগী নারী কৌশলে মহাসড়কে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে হাইওয়ে পুলিশ বাসসহ দণ্ডিতদের টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এ ঘটনায় ওই দিনই টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
পরে টাঙ্গাইল সদর থানার পরিদর্শক ভিক্টর ব্যানার্জী তদন্ত শেষে ২৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দেন।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে পুলিশি হেফাজতে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন