প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে যাচ্ছে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের এক ভিডিও ক্লিপ। আর এই ভিডিওর চারপাশে ফুটবলজগত জুড়ে নতুন বিতর্ক এবং তুমুল আলোচনার সূচনা হয়েছে।
বিশ্বমঞ্চের ফাইনালের আগে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে লিওনেল মেসির একটি বাক্য এখন নেটদুনিয়ার কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলো ইতিমধ্যে এই খবরটির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—ফাইনালে নামার আগে যখন এলএমটেন ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা দিয়ে দেশবাসীকে উদ্দীপিত করেছিলেন, সেই তিনিই মাঠে নামার মুহূর্তে সতীর্থদের হঠাৎ ‘সবকিছু ভুলে যাওয়ার’ তাগিদ দিলেন কেন?
আর্জেন্টাইন ক্রীড়ামাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’ ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সূত্র ধরে জানাচ্ছে, ড্রেসিংরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে অধিনায়ক মেসি বলছিলেন, ‘সবাই শান্ত হও। মূল বিষয় হলো আমাদের ঠাণ্ডা মাথায় থাকতে হবে।’
এ পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক ও সাধারণ স্পোর্টস অনুশাসনের মতো মনে হলেও, গোল বাঁধিয়েছে তাঁর পরের বাক্যটি। সতীর্থদের উদ্দীপ্ত করতে মেসিকে বলতে শোনা যায়, ‘এসো, আমরা সবকিছু ভুলে যাই। আমরা শুধু খেলি। এসো, শুধু খেলায় মন দিই।’
ভিডিওতে স্পষ্ট, অধিনায়কের কথা শুনছিলেন যখন এনজো ফার্নান্দেজ, এমিলিয়ানো মার্তিনেজরা, তখন তাদের শরীরী ভাষায় ছিল গভীর গাম্ভীর্য। তবে প্রশ্ন উঠেছে, মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনালের মুহূর্তের আগে সতীর্থদের ঠিক কী এমন ঘটনা বা বিতর্ক মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে বলছিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর?
৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল মহাতারকা ঠিক কোন ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে ফাইনাল উপলক্ষ্যে রেফারির সুবিধা পাওয়ার নিয়ে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে সমালোচনার যে ঝড় উঠেছিল, তার দিকেই অনেকেই হয়তো আঙুল তুলছেন। ফাইনালের আগে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এমেরিক লাপোর্ত খোলামেলাভাবে অভিযোগের আঙুল উঠিয়েছিলেন আলবিসেলেস্তেদের দিকে।
লাপোর্ত বিতর্ক উসকে দিয়ে বলেছিলেন, ‘সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে রেফারিংয়ের কিছু সিদ্ধান্ত আমাকে সত্যি অবাক করেছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে এমন কিছু ঘটেছিল, যেখানে কোনো শাস্তিই দেওয়া হয়নি। তারা অনবরত প্রতিপক্ষ ও রেফারির ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে। এত বড় আসরে এমন আচরণ ফুটবলের স্বার্থেই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এতে প্রতিপক্ষের মনোযোগ নষ্ট হয়।’
ধারণা করা হচ্ছে, মাঠের বাইরের এই বিতর্ক এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ থেকে সতীর্থদের মুক্ত রাখতে মেসি হয়তো ‘সবকিছু ভুলে যাওয়ার’ মন্ত্র দিয়েছিলেন।
এছাড়া, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের একপেশে ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা, যার মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবার বিশ্বমঞ্চের রাজত্ব পুনরুদ্ধার করল স্প্যানিশরা। ম্যাচে রেফারিং নিয়ে নতুন কোনো বিতর্ক দেখা না গেলেও, শেষ বাঁশি বাজার পরপরই দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইতিমধ্যেই সেই অপ্রীতিকর ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন