প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে আটক এয়ারপোর্ট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহর নির্দেশক্রমে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরখাস্তের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার। তালাশ বিডিকে জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকালে বরিশালের কড়াপুর ইউনিয়নে মিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বসতঘরে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ চারজনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন নিজেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার এএসআই হিসেবে পরিচয় দেন। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
পরবর্তী সময়ে এয়ারপোর্ট থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আটক দেলোয়ার হোসেনকে তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় তাঁর কাছে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, এএসআই দেলোয়ার হোসেন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ দিনের আরআরএল ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছিলেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে তাঁর আটকের বিষয়টি জানার পরপরই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার সাময়িক বরখাস্তের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের এ অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে এএসআই দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এটি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া বিভাগীয় ব্যবস্থা। অন্যদিকে, অভিযানের সময় মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ চারজনকে আটক করা, দেলোয়ার হোসেনের পুলিশ পরিচয় দেওয়া, তাঁর কাছে মাদক না পাওয়া এবং তাঁকে থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য।
তাই সাময়িক বরখাস্তের ঘটনাকে মাদকদ্রব্য রাখার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের ফলাফল কিংবা অন্য কোনো আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন