প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ চুরির সাথে সম্পর্কিত। মঙ্গলবার দুপুরে পাটগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষটি সংঘটিত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের।
সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি দোকানও ভাঙচুর ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘর্ষের কারণে পাটগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টুঙ্গিপাড়ার গিমাডাঙ্গা গ্রামের রোমান শেখের মোটরসাইকেল থেকে দুই দিন আগে কয়েকটি যন্ত্রাংশ চুরি হয়। এ ঘটনায় চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছিল। পরে টুঙ্গিপাড়া ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে গওহরডাঙ্গা গ্রামের কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার টুঙ্গিপাড়া কলেজ এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে সেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পাটগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায়, যেখানে দুই গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেন।
পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। সংঘর্ষের মধ্যে কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন বলে স্থানীয়রা জানান।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যরা দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় উভয় পক্ষের লোকজনকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় গোপালগঞ্জ থেকে পুলিশের একটি বিশেষ টিমও ঘটনাস্থলে আনা হয়।
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, পাটগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এতে কয়েকজন আহত হন এবং স্থানীয় কয়েকটি দোকান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি কিছু সময় যান চলাচলও ব্যাহত হয়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গোপালগঞ্জ থেকে বিশেষ টিম আনা হয়েছিল। পরে দুই পক্ষের লোকজনকে নিজ নিজ এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কোনো পক্ষের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত সতর্কতা রয়েছে। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজর রাখছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন