প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের লাহোরে ২০ বছর বয়সী এক আজারবাইজানি নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগে তিন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছে পাঞ্জাব পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে সহায়তার অভিযোগে প্রধান সন্দেহভাজনের কয়েকজন আত্মীয়কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আদালতের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই নারী সোমবার স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তার জবানবন্দি প্রদান করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর অধিবাসী। তিনি ব্যবসার কাজে পাকিস্তানে আসেন দুই সপ্তাহেরও বেশি আগে এবং লাহোরের রাইউইন্ড এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
তার অভিযোগ, ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দুই নারী তাকে ডিফেন্স হাউজিং অথরিটি (ডিএইচএ) এলাকার একটি ক্যাফেতে নিয়ে যান। সেখানে তিনজন পুরুষ তাদের সঙ্গে যোগ দেন। পরে ওই পুরুষেরা তাকে ও আরো দুই নারীকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, তারা তাকে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সেখানে মদ্যপানের পর তাকে একটি নেশাজাতীয় দ্রব্য দেওয়া হয়। ওই নারী অভিযোগ করেছেন, তিনজন পুরুষ তাকে গণধর্ষণ করে এবং পরে গাজী ইন্টারচেঞ্জ এলাকার কাছে ফেলে রেখে যায়।
ভুক্তভোগী আরো অভিযোগ করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজনরা তার মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। ডিআইজি অপারেশনস ফয়সাল কামরান জানিয়েছেন, তিন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ দল কাজ করছে। তারা হলেন আহমেদ তানভীর, আলী ও মহসিন। পুলিশের মতে, তানভীর প্রধান সন্দেহভাজন। তাকে সহায়তার অভিযোগে তার দুই আত্মীয়কে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজনরা লাহোর থেকে পালিয়ে যায়। তাদের একজনের সর্বশেষ অবস্থান লাহোর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের শিয়ালকোট এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছে।
পাঞ্জাব পুলিশের আরেকটি সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজনরা লাহোর থেকে পালিয়ে যায়। তাদের একজনের সর্বশেষ অবস্থান শিয়ালকোটে শনাক্ত করা হয়েছে, যা লাহোর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে। তাদের নামও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে।
এদিকে, ওই নারী এর আগে পাকিস্তানে কেন এবং কতবার এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশের এক সূত্রের মতে, চলতি বছর তিনি এর আগে দুইবার পাকিস্তানে এসেছিলেন। ঘটনার সময় এটি ছিল তার তৃতীয় সফর।
সূত্রটি আরো জানায়, ওই নারী টেক্সটাইল ব্যবসার কাজে লাহোর ও ফয়সালাবাদের মধ্যে যাতায়াত করতেন এবং উর্দু বুঝতে ও বলতে পারতেন। সন্দেহভাজনদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কথিত যৌন নির্যাতনের ঘটনাটিও তদন্ত করা হচ্ছে। গত চার মাসে লাহোরে কোনো বিদেশি নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগে এটি দ্বিতীয় ঘটনা।
এর আগে জুন মাসে এক ডাচ ও এক ভেনেজুয়েলীয় নারীকে চার ব্যক্তি ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্তদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ও ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন