প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার চার তিউনিসীয় কর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে বিচার শুরুর আগে আটক রাখার কারণে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আটক হওয়া ওয়ায়েল নাওয়ার ৩৮ দিন অনশনের পর তা স্থগিত করলেও, ঘাসসান হেনচিরি, ঘাসসান বুগদিরি ও নাবিল চেন্নুফি অনশন অব্যাহত রেখেছেন বলে তাদের পরিবার ও সমর্থকেরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চারজনের মুক্তির দাবি জোরালো হয়েছে।
ওয়ায়েল নাওয়ারের পরিবার জানিয়েছে, বাবার আটক হওয়ার পর তার নয় বছর বয়সী ছেলে ইয়াসারের আচরণে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। রাতে ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে ওঠায় সে এখন মায়ের সঙ্গে ঘুমায়। স্কুলে তার ফলাফলও খারাপ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার দাদা হিশাম নাওয়ার। চার বছর বয়সী ছোট মেয়ে সুমুদও বুঝতে পারছে না কেন তার বাবা কারাগারে।
হিশাম বুধবার তিউনিসের আপিল আদালতের বাইরে এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি ওয়ায়েলের আটকাদেশের বিরুদ্ধে করা সর্বশেষ আবেদনের শুনানি অনুসরণ করতে গিয়েছিলেন। ছেলের সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, ওয়ায়েলের মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা, পানি পান করলে বমি হওয়া এবং বাম পা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হচ্ছে।
৪১ বছর বয়সী ওয়ায়েল ১৬ আগস্ট দীর্ঘদিনের আটকাদেশের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেন। ৩৮ দিন পর আইনজীবী ও সমর্থকদের অনুরোধে তিনি অনশন স্থগিত করেন। তবে তিনি তার দাবিগুলো থেকে সরে আসেননি বলে জানিয়েছেন।
অন্য তিন আটক কর্মী ঘাসসান হেনচিরি, ঘাসসান বুগদিরি ও নাবিল চেন্নুফি ৯ সেপ্টেম্বর থেকে অনশন করছেন বলে তাদের পরিবার ও সমর্থকেরা জানিয়েছেন। দীর্ঘ অনশনের কারণে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চারজনকেই মার্চে আটক করা হয়। তিউনিসিয়ার অর্থনৈতিক ও আর্থিক বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার জন্য সংগৃহীত অর্থের ব্যবস্থাপনায় কথিত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাপের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, সংগৃহীত অর্থের উৎস ও ব্যবহার এবং এর কোনো অংশ অন্য কাজে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আটক চার কর্মী ও তাদের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের কেউই এখনো কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হননি। আইনজীবীদের প্রশ্ন, তদন্ত চলাকালে তাদের কেন দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা হচ্ছে।
১১ সেপ্টেম্বর চারজনের বিচার শুরুর আগের আটক আরও চার মাস বাড়ানো হয়। এর বিরুদ্ধে করা আবেদন ২৩ সেপ্টেম্বর তিউনিসের আপিল আদালত খারিজ করে দেয়। ফলে তদন্ত চলাকালে আরও চার মাস তাদের কারাগারে থাকতে হবে।
আইনজীবী ঘাসসান ঘরিবি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, তদন্তের ছয় মাসে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো তদন্তমূলক কাজ করা হয়নি। তার দাবি, আটকাদেশ বাড়ানোর জন্য স্পষ্ট ও আইনসম্মত কারণ থাকা প্রয়োজন।
তবে তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষ বলছে, মামলাটি ফ্লোটিলার রাজনৈতিক বা ফিলিস্তিনপন্থী কর্মকাণ্ড নিয়ে নয়। বরং সংগৃহীত অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আর্থিক তদন্তের অংশ হিসেবে এই মামলা হয়েছে। সরকার বিচার বিভাগকে স্বাধীন এবং আইন অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি করেছে।
এদিকে চার কর্মীর মুক্তির দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর তিউনিসে বিক্ষোভের পর আরও ১৪ জনকে বিচার শুরুর আগে আটক করা হয়েছে বলে আইনজীবী রাফেদ রাব্বেহ জানিয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী একজনও রয়েছে, যাকে কিশোর আদালতে হাজির করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে সমাবেশে অংশ নেওয়া এবং সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলাসহ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
ঘাসসান হেনচিরির পরিবারও তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। তার বাবা সেবতি জানিয়েছেন, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে অনশনে থাকা ছেলে দৃশ্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে। আটক হওয়ার সময় মাথায় পাওয়া আঘাতেরও এখনো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ। ঘাসসানের একটি কিডনি এবং পিঠের সমস্যাসহ আরও কিছু শারীরিক জটিলতা রয়েছে বলেও তার পরিবার জানিয়েছে।
তিউনিসিয়ার নাগরিক সমাজের ওপর চাপ বাড়ার বিষয়েও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দেশটিতে নাগরিক সমাজের কর্মীদের বিরুদ্ধে আর্থিক ও অর্থপাচারবিরোধী তদন্ত ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে তিউনিসিয়ার সরকার বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই মামলার প্রভাব আটক কর্মীদের পরিবারের জীবনেও পড়েছে। কারাগারে সাক্ষাৎ, স্বজনদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং বাবারা কবে বাড়ি ফিরবেন, তা নিয়ে শিশুদের প্রশ্ন এখন পরিবারগুলোর দৈনন্দিন বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠেছে। ওয়ায়েলের ছেলে ইয়াসার এখনো বাবার ফেরার অপেক্ষায় আছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন