প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অধিকৃত পশ্চিম তীরে গিয়ে বেদম মারধরের শিকার হয়েছেন মার্কিন ফটোসাংবাদিক হেইডি লেভিন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ফিলিস্তিনিও আক্রান্ত হয়েছেন। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
লেভিনের শরীরের একাধিক অংশের হাঁড় ভেঙে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সাংবাদিকের ওপর এই ধরনের হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলকে সহিংসতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রুবিও হামলার ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত হননি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, যেসব ছবি তিনি দেখেছেন, সেগুলো ‘ভালো কিছু মনে হয়নি’।
রুবিও বলেন, ইসরায়েলকে এই সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা নিতে’ হবে। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অধিকৃত পশ্চিম তীরে কোনো সংঘাত বা সংকট দেখতে চান না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে ইসরায়েলের কাছে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের এমন কিছু প্রয়োজন নেই; ইসরায়েলেরও এমন পরিস্থিতির প্রয়োজন নেই।’
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অধিকৃত পশ্চিম তীরে আবু ফালাহ এলাকার কাছে ফিলিস্তিনিদের বার্ষিক জলপাই সংগ্রহের কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহের সময় ওয়াশিংটন পোস্টের ফটোসাংবাদিক লেভিনকে নির্মমভাবে মারধর করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা লেভিনকে মারধর করে এবং তার পাসপোর্ট, মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও সরঞ্জাম চুরি করে।
লেভিন জানান, বোতল ও গুলতি নিয়ে আসা হামলাকারীরা তাকে মাটিতে ফেলে প্রায় ১০ মিনিট ধরে লাথি মারছিলেন। এ সময় তিনি নিজের ক্যামেরা ও ব্যাগ আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন। তার ভাষ্যমতে, শরীরে সুরক্ষাবর্ম ও মাথায় হেলমেট না থাকলে হয়তো তিনি আজ বেঁচে থাকতেন না, কারণ হামলাকারীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে তাকে একের পর এক লাথি মেরে যাচ্ছিল।
৬৪ বছর বয়সী লেভিনকে হামলার পর রামাল্লার উত্তর-পূর্বে আবু ফালাহ এলাকা থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মার্কিন বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) তার মেয়ে জানান, লেভিনের একটি আঙুল প্রায় হাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং ওই আঙুলে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তার একটি পাঁজরের হাড় ভেঙেছে, মেরুদণ্ডের একাধিক কশেরুকা ভেঙেছে এবং শরীরে বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও এই হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার করে কারাগারে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হাকাবি লিখেন, ‘একজন নারী আলোকচিত্রী ওপর আক্রমণ হলো মুখোশধারী কাপুরুষদের দ্বারা সংঘটিত এক জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। নিরস্ত্র সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের বছরের পর বছর কারাগারে থাকা উচিত। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং এ ঘটনায় অংশ নেওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগে বিচারের দাবি জানিয়েছি।’
তবে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার দাবি করেন, লেভিন ও অন্য ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার জন্য ফিলিস্তিনি অথবা ‘চরম বামপন্থি’ কর্মীরা দায়ী হয়ে থাকতে পারেন। হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে তার এমন অবস্থান প্রকাশের পর ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হাকাবিও তাদের বসতি স্থাপনকারী হিসেবে উল্লেখ করেননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন