প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদক কারবারি পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পেতে একটি আলমারির ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। কিন্তু একটি ভুলের কারণে তার শেষ রক্ষা হয়নি। পাবলিক ওয়াইফাইয়ে সংযুক্ত হয়ে থাকার ফলে পুলিশ তার অবস্থান চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। পরে ওই আলমারির ভেতর থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩৪ বছর বয়সী জোয়েল লুইস উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের ওয়েম্বলির বাসিন্দা। তিনি উত্তর কিলবার্ন এলাকায় কোকেন ও হেরোইন সরবরাহের জন্য ‘ববি’ নামক মাদক কারবার পরিচালনা করছিলেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘দ্য মেট্রো’র বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজন শিশুর কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন পরীক্ষা করার পর পুলিশ ওই মাদক কারবারের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। লুইস নিজের অবস্থান গোপন রাখতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বিভিন্ন ডিভাইসে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ব্যবহার করতেন।
তবে, যেখানে তিনি অবস্থান করছিলেন, সেখানে থাকা একটি ডিভাইস পাবলিক ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর ৭ জুলাই ওয়েম্বলির ওই ঠিকানায় পুলিশ তল্লাশি চালায়। গ্রেপ্তার এড়াতে লুইস একটি আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়েন। কিন্তু পুলিশ দ্রুত তাকে খুঁজে বের করে। গ্রেপ্তারের সময় তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, “আপনারা আমাকে কিভাবে খুঁজে পেলেন?”
‘দ্য মেট্রো’ জানায়, লুইসের ফোন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তার কাছে থাকা প্রায় ২৫০ জন মাদক ব্যবহারকারীর তালিকা থেকে প্রতিদিন ১০০টিরও বেশি ফোনকল আসত। পুলিশ তার কাছ থেকে কোকেন ও হেরোইনসহ ‘ক্লাস এ’ মাদক উদ্ধার করে। এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ হাজার ৮০০ পাউন্ড।
এছাড়া, প্রায় ৮ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ এবং ছয়টি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ফোনগুলোর মধ্যে একটি ‘ববি’ মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ওই বাড়ি থেকে একটি গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র, ৯ মিলিমিটারের ১৩টি গুলি, একটি ধারালো বড় ছুরি এবং একটি ভাঁজ করা ছুরিও উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, উত্তর কিলবার্ন এলাকায় মাদক পরিবহনে সহায়তার জন্য লুইস তরুণদের নিয়োগ করেছিলেন। এর ফলে তারা সহিংসতা, ভয়ভীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিতে পড়েছিল। তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া ডিটেকটিভ কনস্টেবল লরেন গ্রেস্টি বলেন, মাদক সরবরাহের এ ধরনের কার্যক্রম তরুণ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।
দ্য মেট্রো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কিলবার্নে কোকেন ও হেরোইন সরবরাহের অপরাধে হ্যারো ক্রাউন কোর্ট লুইসকে ১২ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন