প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে ফাঁস হওয়ার ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাখাওয়াৎ হোসেনের সই করা প্রজ্ঞাপনে শুক্রবার (১০ জুলাই) তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফল যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশের পূর্বে ওয়েব পোর্টালে আপলোড করার সময় যথাযথ নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ না করায় ফলাফল ওয়েব পোর্টালে আপলোড করায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ১২(১) অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েস ৯ জুলাই থেকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা নেবেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবা আইরিনের সই করা অফিস আদেশে বৃত্তির ফল ফাঁসের ঘটনার তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিল, এবং সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধিদপ্তরের উপবৃত্তি বিভাগের শিক্ষা অফিসার জিয়াউল কবির সুমন ও সদস্যসচিব প্রশাসন-২-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রোখসানা হায়দার।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর ফলাফল পূর্বে ৮ জুলাই চূড়ান্ত করা হয়েছিল। এই ফলাফল ওয়েবপোর্টালে আপলোড করতে প্রয়োজনীয় লিংক তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে।
এতে আরও বলা হয়, ফলাফল যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশের পূর্বে তা ওয়েবপোর্টালে আপলোড করার জন্য তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৯ জুলাই সকাল ১০টায় ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফলাফল ওই লিংকসমূহে আপলোড করা হয়। অল্প সময়ে সচল থাকায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা ওই লিংকসমূহ থেকে ফলাফল ডাউনলোড করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।
জানা যায়, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা ছিল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই)। কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে ফল প্রকাশ করতে পারেনি। তবে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলের খণ্ডিত অংশ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষক ও অভিভাবক এই ফলাফল শেয়ার করে নিজেদের ছাত্রছাত্রী বা সন্তানদের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন। কিন্তু এই ফল সঠিক কিনা, নাকি ভুয়া, তা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।
দিনভর বিভিন্ন আলোচনা-পর্যালোচনার পর রাতে ঘটনা সম্পর্কে বিবৃতি এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। এবারে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন