প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের সংসদ সদস্যদের একটি দলের পক্ষ থেকে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়। প্রেস টিভির একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উদ্দেশ্যে লেখা একটি চিঠিতে সংসদ সদস্যরা এই আহ্বান জানান। চিঠিতে তারা প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডারদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
আইনপ্রণেতাদের এই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা আমাদের সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখব, যতদিন না আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা খামেনির হত্যাকারীদের অফিস পর্যন্ত পৌঁছায়।’
আবার তারা বলেন, যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ না রেখে হরমুজ প্রণালীর অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও তারা পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনার বিরোধিতা সহযোগে, যুদ্ধের ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানান। তারা এমন শাস্তির কথাও উল্লেখ করেছেন যাতে ভবিষ্যতে হামলার সম্ভাবনা না থাকে।
আইনপ্রণেতারা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি জেসিপিওএ-এর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মার্কিন প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রাখতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তারা ইরানের নেতার শাহাদাত ও অন্যান্য ভুক্তভোগীদের হত্যাকারী, কমান্ডার ও সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রয়াত কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের দিকে ইঙ্গিত করে ইরানি আইনপ্রণেতারা বলেন, ‘এপস্টেইন নেটওয়ার্কের’ অপরাধীরা কোনো নৈতিক বা আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে সম্মান করে না। তারা আরও বলেন, ‘শত্রুদের জানা উচিত যে চোখের বদলে চোখ যথেষ্ট নয়, মাথা নেয়া হবে।’
তারা উল্লেখ করেছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে সংসদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ও কমিটি বৈঠক দ্রুত পুনরায় শুরু করতে হবে, যেমন ১২ দিনের যুদ্ধের সময় করা হয়েছিল, যাতে আইনসভা তার তদারকি ও আইন প্রণয়নের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর আওতায় ৪০ দিনের মধ্যে ১০০টি পাল্টা হামলা চালায়।
এরপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এপ্রিলের শুরুর দিকে একটি যুদ্ধবিরতি হয়, যা এখন ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এখনো চলমান রয়েছে এবং ইরান বারবার অভিযোগ করছে যে ওয়াশিংটন এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে।
এদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, শত্রুপক্ষকে এখন যুদ্ধক্ষেত্রে তেহরানের আরোপিত নতুন নিয়ম মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে—বিশেষত হরমুজ প্রণালীর ‘স্মার্ট ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের’ ক্ষেত্রে।
আজ (৩ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানায়, ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী এমন নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে যা এখন ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের মেনে নিতে হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শত্রুপক্ষকে ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী যে নতুন নিয়ম যুদ্ধক্ষেত্রে তৈরি করেছে, তা মেনে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে।’
এতে আরও দাবি করা হয়েছে, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়, যার মধ্যে একটি তেলবাহী জাহাজ ও কেশম দ্বীপের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলার অভিযোগ হাজির হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এবং খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, তারা “সম্পূর্ণ ধ্বংস” না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে। এতে বিদেশি শক্তিকে পশ্চিম এশিয়া থেকে বের করে দেওয়া এবং “আল-কুদস মুক্তির” কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, দেশের জনগণের রাস্তায় উপস্থিতি তাদের ‘যুদ্ধক্ষেত্রের মেরুদণ্ড’ এবং ‘কূটনীতির শক্তিশালী ভিত্তি’ হিসেবে কাজ করছে। তারা দেশজুড়ে টানা ৯০ দিনের বেশি চলমান সমাবেশের কথাও উল্লেখ করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন