প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হাসপাতালের ওয়ার্ডে জায়গার অভাব দেখা দিয়েছে। রোগীরা শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রতিদিন এক হাজারের বেশি মানুষ বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন, এবং ভর্তি হচ্ছেন ১২০ থেকে ১৫০ জন। এই পরিস্থিতির মধ্যে শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে আকস্মিকভাবে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করে রোগীদের দুর্ভোগ সরেজমিনে দেখেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। তিনি হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার, নতুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের, ডায়ালাইসিস সেবা চালুর, মাতৃ ও নবজাতকের জন্য শয্যা বাড়ানোর এবং ফিজিওথেরাপি ও উন্নত প্যাথলজি সেবা চালুর ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী পরিদর্শনকালে বলেন, ‘আমাকে প্রধানমন্ত্রী পাঠিয়েছেন। আমি খালি হাতে আসিনি।’ তিনি হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সেবাকেন্দ্র ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজ নেন। শয্যার সংকটে মেঝেতে রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। পরে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে একাধিক সেবা ও জনবল দেওয়ার ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী কিডনি রোগীদের জন্য পটিয়া হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর কথাও জানান। এ জন্য ১০টি শয্যা ও ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এ সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে প্রতিদিন প্রায় ২০ জন রোগী ডায়ালাইসিসের সুযোগ পাবেন।
মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণের জন্য প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০টি এবং নবজাতকদের জন্য ২০টি শয্যা রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে নতুন জনবল দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পাঁচজন মেডিকেল কর্মকর্তা, চারজন নার্স, একজন মিডওয়াইফ, একজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট, একজন রেডিওগ্রাফার, একজন বাবুর্চি ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন।
এ ছাড়া উন্নতমানের প্যাথলজি সেবা চালুর পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নারী ও পুরুষ চিকিৎসক দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
পটিয়া হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের দাবির বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু অর্থ ব্যয় করলেই আইসিইউ চালু করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সব প্রস্তুতি নিশ্চিত করেই ভবিষ্যতে আইসিইউ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী পটিয়ার পাঁচুরিয়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (এইচইডি) নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ সময় পটিয়া হাসপাতালের জন্য ৫০টি রেবিস ভ্যাকসিন, ৫০টি রেবিস আইজি, ১৫০টি ডায়রিয়ার স্যালাইন ও ২০টি অ্যান্টিভেনম দেওয়ার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, পটিয়া একসময় মহকুমা সদর ছিল। বৃহত্তর এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা বিবেচনায় তখন এখানকার স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে পটিয়াসহ আশপাশের পাঁচ উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করা জরুরি।
চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী আকস্মিকভাবে হাসপাতাল পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেছেন। তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রতিদিন বহির্বিভাগে এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ভর্তি রোগীর সংখ্যা দৈনিক ১২০ থেকে ১৫০ জনের মতো। পটিয়াসহ আশপাশের পাঁচ উপজেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা হওয়ায় হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ দিন দিন বাড়ছে।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পিএস এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন