প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোলেরহাট ফাজিল বিএ মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়ম ও শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে দায়িত্ব না দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত গোলেরহাট ফাজিল বিএ মাদ্রাসাটি উপজেলার পূর্ব দুধকুমর নদীর পাড়ে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৪০ জন শিক্ষক-কর্মচারী ও ৮০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬২ বিঘা জমি, দুটি পুকুর, চারতলা ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানে আরবি বিষয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব না দিয়ে মো. মোকছেদ আলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২৩ সালের সংশোধিত প্রবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়ার পর বিধি মোতাবেক অধ্যক্ষ নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময়েও তা করা হয়নি।
এদিকে, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জারি হওয়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার আলোকে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তবে নতুন নীতিমালা জারির পরও আগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্বে বহাল থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি মাদ্রাসার গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এতে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ফলাফল নিয়েও হতাশা দেখা দিয়েছে। মাদ্রাসাটির ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৩ জন পাস এবং ৩০ জন অকৃতকার্য হয়েছে বলে জানা গেছে। এমন ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার মান নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনিক জটিলতা, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা ও নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাদ্রাসায় নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার আগে প্রচলিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি, পাঠদান ব্যবস্থা, সাম্প্রতিক ফলাফল ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোকছেদ আলীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন