প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সামরিক প্রভাবকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে লাওসের নতুন যৌথ সামরিক ঘাটিতে চীন হালকা হামলাকারী যুদ্ধবিমান এবং দুই ডজনেরও বেশি সামরিক যানবাহন মোতায়েন করেছে। স্যাটেলাইট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভ্যান্টোর’ (Vantor)-এর সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্রে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনের নিকটবর্তী ‘বান কুন’ (Ban Keun) নামক স্থানে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত চীন-লাওস যৌথ প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে অন্তত আটটি কে-৮ (K-8) লাইট অ্যাটাক জেট এবং বিপুল সংখ্যক সামরিক সহায়ক যান অবস্থান করছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, এই সামরিক ঘাঁটিটির রানওয়ে দ্রুত সম্প্রসারণ ও ব্যাপক নির্মাণকাজ চলছে। চীন ও লাওসের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘাঁটিটি চালুর ঘোষণা দেয়ার একদিন পরেই এই ছবিগুলো প্রকাশিত হয়।
বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের একটি প্রধান সামরিক উপস্থিতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে, যা মূল ভূখণ্ডভিত্তিক বা স্থলপথের মাধ্যমে ঘটছে। ভিয়েতনাম সীমান্ত থেকে ৩০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে অবস্থিত এই ঘাঁটি চীন-লাওস রেললাইনের সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি কৌশলগত অবস্থান থেকে চীনের ভৌগোলিক ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
এদিকে, ‘বান কুন’ ক্ষেত্রটির একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। সত্তরের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ‘এয়ার আমেরিকা’ এই ঘাঁটিটিকে গোপন এয়ারফিল্ড (লিমা সাইট ৪৪) হিসেবে ব্যবহার করত। একসময়ের মার্কিন গোপন ঘাঁটি এখন চীনের সরাসরি সামরিক নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এয়ারফিল্ডটির অবকাঠামো ও রানওয়ে এমনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে চীন এখানে তাদের বড় নজরদারি বা গোয়েন্দা বিমান (Signals Intelligence) পরিচালনা করতে সক্ষম হয়। আফ্রিকার জিবুতি, কম্বোডিয়ার রিম বন্দর এবং দক্ষিণ চীন সাগরের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের এই ঘাঁটি বিস্তার অঞ্চলটির ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের সামরিক মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে।
তবে স্যাটেলাইট ছবির তথ্য সম্পর্কে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা লাওসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: রয়টার্স।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন