প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বার্সেলোনার যুব অ্যাকাডেমি লা মাসিয়ায় ট্রায়ালের সময় লিওনেল মেসির উপর তৈরি তিনটি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে ভিন্নমত প্রকাশ পেয়েছে। এক কোচ তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে চাননি। অন্যদিকে, আরেক কোচ তাকে তরুণ ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত মেসি ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার যুব অ্যাকাডেমিতে ট্রায়াল দেন। সেই সময় তার শারীরিক গঠন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এমনকি, একজন কোচ তাকে দলে না নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো র রিপোর্ট অনুযায়ী, সাংবাদিক ফ্লোরঁ তোরশু ২০০০ সালের শরৎকালে লা মাসিয়ায় মেসির ট্রায়াল সংক্রান্ত তিনটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের এই সাংবাদিক ‘কিং লিও’ নামের একটি জীবনীগ্রন্থের লেখকও।
প্রতিবেদনগুলোতে মেসির ফুটবলীয় দক্ষতার প্রশংসা থাকলেও তার উচ্চতা ও শারীরিক শক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রথম কোচের মূল্যায়নে মেসির ড্রিবলিং, ক্ষিপ্রতা, বুদ্ধিমত্তা, দূরদৃষ্টি এবং জোরালো শট নেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করা হয়। প্রতিবেদনে তাকে বয়স অনুযায়ী প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত পরিপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, পেনাল্টি বক্সের ভেতরে তার অসাধারণ দক্ষতার কথাও বলা হয়। তবে, তার একমাত্র দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কম উচ্চতা ও শারীরিক শক্তির অভাব।
দ্বিতীয় কোচের মূল্যায়ন ছিল নেতিবাচক। তখন মেসির উচ্চতা ছিল ১৪২ সেন্টিমিটার। ওই কোচের মতে, কম উচ্চতার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সমস্যা হতে পারে। ভবিষ্যতে উচ্চতা ১৫০ সেন্টিমিটার হলেও, বয়সে বড় খেলোয়াড়দের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
ওই প্রতিবেদনের চূড়ান্ত মন্তব্য ছিল, মেসিকে দলে নেওয়া উচিত নয়। বরং, তার শারীরিক বিকাশ পর্যবেক্ষণ করে দুই বছর পর আবার মূল্যায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়।
কিন্তু তৃতীয় কোচের মতামত ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি মেসিকে তরুণ দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনা করেন এবং তাকে দলে নেওয়ার সুপারিশ করেন। তার মতে, মেসির মধ্যে অনেক কিছু দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিন কোচের তিন ধরনের মূল্যায়নের পরও শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনায় নিজের জায়গা করে নেন মেসি। পরবর্তীতে, ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত হন তিনি।
বার্সেলোনার হয়ে মেসি ৭৭৮টি আনুষ্ঠানিক ম্যাচে ৬৭২ গোল করেন এবং জেতেন ৩৫টি শিরোপা। তার ক্যারিয়ার প্রমাণ করে, শুরুর দিকে শারীরিক গঠন নিয়ে যে সংশয় ছিল, তা তার অসাধারণ ফুটবলীয় প্রতিভাকে আটকে রাখতে পারেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন