প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে বের হতে পারবে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। তবে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর অন্তত ১০ বছর পার হতে হবে। এরপর যদি কোনো দেশ চুক্তি থেকে বের হতে চায়, তাহলে তাকে অন্তত তিন মাস আগে লিখিত নোটিশ দিতে হবে।
তুরস্কের পার্লামেন্টে অনুমোদনের জন্য চুক্তিটি পাঠানোর আগে এর ১৬টি ধারার পূর্ণাঙ্গ লেখা প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম তুর্কিয়ে টুডে। এতে চুক্তি থেকে বের হওয়ার নিয়মের পাশাপাশি কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো কিভাবে সহায়তা করবে, তা-ও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে জানায়, চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
তুর্কিয়ে টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির ১৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পর যেকোনো সদস্য দেশ চুক্তি থেকে সরে যেতে পারবে। এ জন্য কূটনৈতিক মাধ্যমে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। নোটিশ দেওয়ার অন্তত তিন মাস পর দেশটি চুক্তি থেকে বের হতে পারবে।
চুক্তিতে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ রাখা হয়নি। জোটের সচিবালয়ে চুক্তি অনুমোদনের শেষ দলিল জমা দেওয়ার পর এটি কার্যকর হবে। অর্থাৎ চুক্তিতে সই করার দিন থেকে নয়, এটি কার্যকর হওয়ার দিন থেকে ১০ বছরের হিসাব শুরু হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার তুরস্ক সরকার চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় এই চুক্তিতে সই করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। চুক্তিতে যৌথ সামরিক মহড়া, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সহযোগিতার কথাও বলা হয়েছে। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ লেখায় বলা হয়েছে, কোনো সদস্য দেশ অন্য দেশ বা কয়েকটি দেশের জোটের সশস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে অন্য সদস্যদের দ্রুত তাকে সহায়তা করতে হবে।
তবে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঠিক করা হবে। আক্রান্ত দেশটির প্রয়োজন, অন্য সদস্যদের সহায়তা দেওয়ার সামর্থ্য এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হবে। চুক্তিতে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, আক্রান্ত দেশকে সহায়তা করতে কতজন সেনা পাঠাতে হবে বা কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে হবে। ফলে সহায়তা করা বাধ্যতামূলক হলেও কিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে রয়েছে সৌদি আরব। এই পরিস্থিতিতে আক্রান্ত সদস্যকে সহায়তা করার শর্ত বাস্তবে কিভাবে কার্যকর হয়, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক জরুরি বৈঠকে তিন দেশের প্রতিনিধিরা সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন নিশ্চিত করার বিষয়ে সম্মত হন।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষায় পাকিস্তান ‘যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা’ দিচ্ছে।
রবিবার ইনডিপেনডেন্ট আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এসব স্থান ও স্থাপনার সুরক্ষা পাকিস্তানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। তবে কী ধরনের বা কতটা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা জানাননি তিনি। তুরস্কের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, সৌদি আরবকে তুরস্কের সহায়তা মূলত সামরিক সরঞ্জাম, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও অস্ত্রব্যবস্থার মধ্যে সীমিত থাকতে পারে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, অন্য কোনো দেশে হামলা চালানোর জন্য তুরস্ক সেখানে সেনা পাঠাবে না।
চুক্তি কার্যকর করার প্রক্রিয়া তিন দেশে এক রকম নয়। তুরস্কে চুক্তিটি কার্যকর করতে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। এ ছাড়া দেশের বাইরে সেনা পাঠাতেও পার্লামেন্টের আলাদা অনুমতি নিতে হয়। সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টের বদলে রাজকীয় আদেশের ব্যবস্থা রয়েছে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে চুক্তির আওতায় সেনা মোতায়েন এবং ইয়েমেনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় সেনা মোতায়েন করতে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন নেই। তাদের দাবি, এ ধরনের মোতায়েন বিদ্যমান আইন ও সরকারি প্রক্রিয়া অনুযায়ী করা হবে। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। তবে ইয়েমেনের যুদ্ধে অংশ নিতে সেনা পাঠানোর অনুমতি দেয়নি। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, বর্তমান চুক্তির আওতায় পাকিস্তানি সেনারা সৌদি আরবের ভূখণ্ড রক্ষা করবেন। হুতিদের ওপর হামলা চালাতে তারা ইয়েমেনে প্রবেশ করবেন না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন