প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তালাক দেওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে প্রথম স্বামী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা দ্বিতীয় স্বামীকে মারধর করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে ভিডিও ধারণ করেছে এবং এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।
রোববার দুপুরে পীরগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কামরুন আকতার এই অভিযোগ করেন।
কামরুনের বক্তব্য অনুযায়ী, তার প্রথম স্বামী আনারুলের সঙ্গে পটুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে তার বিবাহ হয়েছিল। সংসার জীবনে তিনি ২ পুত্র সন্তানের মা হন; কিন্তু ৭-৮ মাস আগে পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি আনারুলকে তালাক দেন।
এরপর প্রায় ৫ মাস আগে কামরুন উপজেলার নাকাটি শহিদ আব্দুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তৈবর রহমানকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তিনি তৈবরের সঙ্গে সংসার করছেন এবং তাদের বড় ছেলে কাউসার (১৩) তার সঙ্গে রয়েছে। ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ (৬) কামরুনের প্রথম স্বামীর বাড়িতে থাকে।
শনিবার সন্ধ্যায় কামরুন, তার বর্তমান স্বামী তৈবর এবং বড় ছেলে কাউসারকে নিয়ে ছোট ছেলে আব্দুল্লাহকে দেখতে পটুয়াপাড়া গ্রামে যান। এ সময় আনারুল ও তার লোকজন কামরুন এবং তৈবরকে আটক করে। তারা মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাদের মারধর করেন এবং ‘তৈবর এক নারীর সঙ্গে ধরা পড়েছে’ এমন মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে তৈবরের গলায় জুতার মালা পরিয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন।
পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হয়, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। কামরুন দাবি করেন, এতে তিনি এবং তার স্বামী তৈবর চরমভাবে অপমানিত হয়েছেন। কামরুন জানান, তালাক দেওয়ার কারণে প্রথম স্বামী এমনটি করেছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন উদ্ধার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কামরুনের মা বিলকিস বেগম, ভাই টিটু, স্বামী তৈবর, তৈবরের বোন সুলতানা, সুলতানার স্বামী কবাদ আলীসহ পরিবারের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন প্রামাণিক বলেন, "খবর পেয়ে আমরা তাদের উদ্ধার করি। এ বিষয়ে তারা আইনগত সহায়তা চাইলে করা হবে। এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন