প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক মন্তব্য করেছেন, "সত্য ও হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না।" তিনি উল্লেখ করেন, কেয়ামত পর্যন্ত একটি দল হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং তাদের ক্ষতি করার ক্ষমতা কারো নেই। আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীনকে এভাবেই রক্ষা করেছেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজের আগে খুতবায় এসব কথা বলেন তিনি।
মুফতি আবদুল মালেক খুতবায় আরও বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, "কেরামত পর্যন্ত একটি দল সত্য ও হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।" তাদের বিরোধিতা করে কেউ তাদের ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ তাআলা যেভাবে তাঁর দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন, তা কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ নাম মুহাম্মদ। তাঁর আরেকটি নাম আহমাদ। এ দুটি নাম পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। হাদিসে তাঁর আরও কয়েকটি নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিভিন্ন গুণ ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন।
মহানবী (সা.)-এর প্রতি উম্মতের দায়িত্ব এবং তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে খতিব বলেন, আল্লাহ তাআলা নবুওয়াত দেওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আরও ২৩ বছর জীবিত রেখেছিলেন। এই সময়ে আল্লাহর কুদরত ও রহমতের যেসব নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে জানতে সিরাত অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।
মুফতি আবদুল মালেক উল্লেখ করেন, মহানবী (সা.) নবুওয়াত লাভের পর মক্কায় ১৩ বছর অবস্থান করেন। এ সময়ে পবিত্র কোরআনের বেশির ভাগ সূরা অবতীর্ণ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিতেন। সাহাবিরা তা নির্ভুলভাবে লিখে সংরক্ষণ করতেন। একই সঙ্গে মহানবী (সা.) মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। যাঁরা সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন, তাঁরা সৌভাগ্যবান হয়েছেন।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে ঈমানদারদের ওপর নির্যাতনের কথাও খুতবায় তুলে ধরেন বায়তুল মোকাররমের খতিব। তিনি জানান, সে সময় ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ করায় অনেক মুসলমানকে কাফেরদের পক্ষ থেকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।
ইসলামি শরিয়তের বিধান সংরক্ষণের বিষয়ে মুফতি আবদুল মালেক বলেন, কোরআন ও হাদিসের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা যে শরিয়ত দান করেছেন, তা সংরক্ষিত রয়েছে। ইসলামের বিধানে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হলে তা ধরা পড়ে যায়। আল্লাহর দ্বীন যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে সাহাবিদের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন, সেভাবেই তা বিদ্যমান থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহর দ্বীন কেয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। এ কারণে ইসলামের মূল শিক্ষা ও বিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এবং মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবারের জুমার খুতবায় মুফতি আবদুল মালেক সংক্ষেপে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মক্কায় অবস্থান, মদিনায় হিজরত, মদিনার জীবন, বিভিন্ন যুদ্ধ এবং বিদায় হজের ভাষণসহ তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো তুলে ধরেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন