প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হত্যাযজ্ঞের মূল পরিকল্পনাকারী এবং হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বিশ্বাস করতেন যে, তাদের হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরাইল গাজায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। ২০২২ সালের ২৪ আগস্ট নিজ হাতে লেখা তার একটি নথিতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) উক্ত নথিটি জনসমক্ষে আসতে পারে।
মেইর অমিত ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড টেররিজম ইনফরমেশন সেন্টার (আইটিআইসি) এই নথিটি প্রকাশ করেছে। গাজায় পালটা আগ্রাসন চালানোর সময়ে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হামাসের যে নথি উদ্ধার করেছিল, এটি সেগুলোর একটি অংশ।
গত বছরের অক্টোবরে বা তার আগে আইটিআইসি বা আইডিএফ-এর প্রকাশিত আগের নথিগুলোও একই ধরণের বিষয়বস্তুর ওপর সিনওয়ারের লেখা ছিল। উল্লেখ্য, এর মধ্যে একটি নথি একই দিনে লেখা হয়েছিল। তবে সদ্য প্রকাশিত এই নথিতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
অপর একটি নথিতে সিনওয়ার উল্লেখ করেছেন, সফলভাবে হামলা চালানোর জন্য তাদের হাতে সময় থাকবে ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা। এই সময়ের মধ্যে ইসরাইলের পালটা আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা অকেজো করে দিতে হবে।
নতুন প্রকাশিত নথিতে সিনওয়ার বলেন, ইসরাইল যেকোনো অবস্থাতেই একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং তারা যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে, সেই সম্ভাবনাকে তিনি উড়িয়ে দেননি।
সিনওয়ার লিখেছিলেন, প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা: শত্রু সমস্ত উপায় ও অস্ত্র ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না, যা শুধু আক্রমণ নয়, অন্যান্য উপায়েও হতে পারে। তারা এমনকি পারমাণবিক অস্ত্রও ব্যবহার করতে পারে। তবে আগে তাদের হামলায় চমকে দিতে হবে এবং বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফেলে দিতে হবে। অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে একটি সর্বজনীন অভিযান পরিচালনা করতে হবে, যাতে মানুষ গ্রামে ফিরে গিয়ে প্রতীকীভাবে সেগুলোর দখল নিতে পারে। এই অভিযান জীবন-মরণের লড়াই, এবং আল্লাহর রহমতে এখানে জীবনের জয় হবে।
আইটিআইসি লিখেছে, হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরাইল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে এমন বাস্তব ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, তিনি তাঁর ত্রাণকর্তাসুলভ (মেসিয়ানিক) দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে আসেননি। তিনি জোর দিচ্ছেন যে এটি হবে 'জীবন-মরণের লড়াই', এমনকি যদি এর মূল্য হিসেবে পুরো গাজা উপত্যকা ধ্বংস হয়ে যায়।
নতুন এই নথিতে দুই শতাধিক ইসরাইলি সম্প্রদায় ও আইডিএফ ঘাঁটিতে হামলা করতে ১০ হাজার পর্যন্ত হামাস যোদ্ধার একটি আক্রমণ বাহিনীর কথা বলা হয়েছে। যদিও পরবর্তী পরিকল্পনা ও মূল হামলায় প্রথম ধাপে প্রায় দুই হাজার হামাস যোদ্ধা, দ্বিতীয় ধাপে সমসংখ্যক যোদ্ধা এবং তৃতীয় ধাপে বিশৃঙ্খলভাবে প্রায় ১ হাজার ৬০০ অদক্ষ গাজাবাসী অংশগ্রহণ করেছে।
ইসরাইলের মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেটের পক্ষ থেকে আইটিআইসি-কে দেওয়া হামাসের এসব গোপন অভ্যন্তরীণ নথি গত ১৮ জুন একচেটিয়াভাবে দ্য জেরুজালেম পোস্টের হাতে এসে পৌঁছায়।
দ্য পোস্টের দেখা ছয়টি নথি বিশ্লেষণ করে আইটিআইসি জানিয়েছে, ২০২২-২০২৩ সাল পর্যন্ত হামাসের গোপন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল কৌশলে ইসরাইলকে ধোঁকা দিয়ে আত্মতুষ্টিতে রাখা এবং ৭ অক্টোবরের হত্যাযজ্ঞের দিন আইডিএফ-কে চমকে দেওয়া।
হামাসের এই প্রতারণার বিষয়ে ইতোমধ্যে অনেক কিছু জানা গেলেও এই মূল নথিগুলো আগে কখনো জনসমক্ষে আসেনি। হামাসের কৌশল ও রণনীতি বোঝার ক্ষেত্রে এই নথিগুলো নতুন একটি দিক প্রকাশ করেছে।
২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরের একটি নথির শিরোনাম ছিল— ইসরাইলে হামাসের আকস্মিক হামলার ভিত্তি হিসেবে একটি কৌশলগত প্রতারণা পরিকল্পনা তৈরি করা।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন