প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় এতিমখানার অনুদান আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানের শিকার হন বরিশাল থেকে আসা দুই গণমাধ্যমকর্মী। এমনকি পুলিশ ডেকে এনে জোড়াজুড়ি করে মুচলেকা রাখা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'ভুয়া সাংবাদিক' তকমা দিয়ে মারাত্মকভাবে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং বরিশাল অঞ্চলের গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা মফস্বলে সাংবাদিকতার স্বাধীন পরিবেশকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার 'দারুলহুদা ইসলামিয়া দাখিল বালিকা মাদ্রাসা' প্রাঙ্গণে।
ভুক্তভোগীদের বিবরণ অনুযায়ী, মাদ্রাসাটিতে এতিম শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যা কত, সরকার প্রদত্ত ক্যাপিটেশন গ্রান্টের টাকা কোথায় যায় এবং দাতা সংস্থার অনুদান সঠিকভাবে খরচ হচ্ছে কি না, এসব জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে যান জাতীয় 'দৈনিক বিজনেস ফাইল'-এর বরিশাল ব্যুরো প্রধান মো. রাফি ও তাঁর সহকর্মী। তবে, সরেজমিনে অনুসন্ধান চলাকালে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের চেয়েও অধিক আক্রমণাত্মক ভূমিকা গ্রহণ করেন ভান্ডারিয়ায় কর্মরত স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. রাফির অভিযোগ, "আমরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক আমাদের ওপর চড়াও হন, গালাগাল ও লাঞ্জনা করে। পরে পুলিশ উপস্থিত হলে আমাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক লিখিত ও মৌখিক মুচলেকা আদায় করা হয়। শুধু তা-ই নয়, আমাদের পেশাগত ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে ফেসবুকে 'ভুয়া সাংবাদিক' বলে অপপ্রচার করা হচ্ছে।"
তবে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহাবুব ইসলাম বলেন, "ঘটনার সময় আমি প্রতিষ্ঠানে ছিলাম না, তবে ফোনে বিষয়টি শুনেছি।" অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নজরুল ইসলাম ঘটনার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে জানান, বরিশাল থেকে সাংবাদিকরা আগমনের পরপরই ভান্ডারিয়ার স্থানীয় সাংবাদিক ৩/৪টি মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে হাজির হন। দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হওয়ার একপর্যায়ে স্থানীয় সাংবাদিকরাই পুলিশে খবর দেন। নজরুল ইসলামের ভাষ্য, "আমরা দুই পক্ষকেই ভেতরে এসে কথা বলতে বলেছিলাম। তবে টাকা-পয়সার কোনো লেনদেন বা লেনদেনের দাবি কোনো পক্ষ থেকেই ওঠেনি।"
অপরদিকে, সহকর্মীকে লাঞ্ছিত করা ও মুচলেকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এশিয়ান টেলিভিশনের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি মো. নাইম হোসেন বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, "বরিশাল থেকে অনেকেই এসে বিভিন্ন স্থান থেকে অনৈতিক সুবিধা নেন। সেদিনও এমন ঘটনা ঘটেছে ভেবে সতর্ক করতে তাদের থেকে মুচলেকা রাখা হয়েছিল। তবে কেউ কাউকে লাঞ্ছিত করেনি। একজনের প্রেস কার্ডের মেয়াদ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে।"
এঘটনায় ভান্ডারিয়া থানার পুলিশদের ভূমিকা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, 'সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি'র খবরে তারা টহল টিম পাঠান। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে তারা স্পষ্টভাবে জানান যে, বরিশাল থেকে আসা সাংবাদিকরা কোনো টাকা দাবি করেননি। বরিশাল থেকে আসা সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র সঠিক পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এদিকে, কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা চাঁদা দাবির প্রমাণ না পাওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় একদল সাংবাদিকের এমন অতি-উৎসাহী আচরণ এবং পুলিশের উপস্থিতিতে মুচলেকা নেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রধান উদ্দেশ্যই হলো জনস্বার্থ রক্ষা ও অনিয়মের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সেখানে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কথা না বলে যদি সহকর্মীর ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ, লাঞ্ছনা বা অপপ্রচারের আশ্রয় নেওয়া হয়, তবে তা সমগ্র সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য এক অশনিসংকেত। পিরোজপুর ও বরিশাল অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন এবং মফস্বলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন