প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে দেশে শিশু হত্যা এবং যৌন নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত অন্তত ৮৬ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। একই সময়ে ৩১২টি ঘটনার প্রেক্ষিতে ৩৩৬ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা উন্নয়ন সংস্থা ‘শিশুরাই সব’ গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদগুলোর ভিত্তিতে এই তথ্য তুলে ধরেছে।
সোমবার প্রকাশিত তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন তাদের পরিচিত মানুষ যেমন বাবা-মা, আত্মীয়, প্রতিবেশী, শিক্ষক অথবা স্থানীয় পরিচিতজন। এই কারণে শিশুদের সবচেয়ে নিরাপদ মনে করা স্থান, যেমন নিজ বাড়ি এবং পরিচিত পরিবেশ, অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সারা বছরে যেখানে ১২৪টি শিশুহত্যা এবং ৩০৮ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক স্তরে পৌঁছেছে। গত ছয় মাসে নিহত ৮৬ শিশুর মধ্যে ৪৭ জন মেয়ে, ৩৬ জন ছেলে এবং তিন জনের পরিচয় জানা যায়নি। সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার হয়েছে শূন্য থেকে নয় বছর বয়সি শিশুরা।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৫০ দশমিক ৫৯ শতাংশ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে পারিবারিক পরিবেশে, অর্থাৎ নিজ বাড়ি অথবা আত্মীয়ের বাসায়। অন্যদিকে ৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ ঘটনা ঘটে জনপরিসরে, যেমন রাস্তা, মাঠ, বাজার বা জলাশয়ের মতো স্থানে।
অপরাধীদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৭টি ঘটনার মধ্যে বাবা-মা এবং ১১টি ঘটনার মধ্যে নিকট আত্মীয় জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া ২২টি ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন প্রতিবেশী বা পরিচিত ব্যক্তি। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি শিশুহত্যা সংঘটিত হয়েছে পরিচিত মানুষের দ্বারা। হত্যার কারণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে রাগ, পারিবারিক কলহ এবং ব্যক্তিগত বিরোধ যা ২২ দশমিক ৯ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৮৬টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৪৪টি ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। অধিকাংশ মামলার তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে। ৩১২টি ঘটনার মধ্যে ৩৩৬ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১২৭ জন মেয়ে, ২৪ জন ছেলে এবং ১৮৫ জনের লিঙ্গ পরিচয় গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়নি। সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৭ থেকে ১২ বছর বয়সি শিশুরা, এই বয়সের ১৭৫ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা মোট ঘটনার ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ।
এছাড়া শুন্য থেকে ছয় বছর বয়সি ৯০ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যৌন নির্যাতনের ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে ১৯১টি ঘটনা ছিল ধর্ষণ, ৭৫টি ধর্ষণের চেষ্টা, ৪৪টি একাধিক বার ধর্ষণ এবং ২৬টি দলগত ধর্ষণ। নির্যাতনের পর দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে, ১১ জন গর্ভধারণ করেছে এবং ৩২ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, অন্তত ১৬ জন বাক, বুদ্ধি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা অথবা একাধিক বার যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
সংস্থার আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার জানান, শিশু অধিকার হরণ একটি জাতীয় সংকটের রূপ নিয়েছে। শিশু সুরক্ষায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, জাতীয় শিশু কমিশন গঠন, শিশু আইন-২০১৩ কার্যকর বাস্তবায়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন