প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, দক্ষ কর্মী পাঠানো সম্ভব না হলে দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্খিত সুফল অর্জন করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, "আমরা বিদেশে কোয়ালিটি সম্পন্ন দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে চাই।"
মন্ত্রী আরও জানান, বিদেশ থেকে আসা চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "ইনশাআল্লাহ আমরা দক্ষ শ্রমিক তৈরী করব।" ওইসব দেশের চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক পাঠানোর বিষয়েও তিনি জোর দেন।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘চট্টগ্রামের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা, কর্মক্ষেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রমমন্ত্রী দুর্ঘটনা ঘটলে শ্রমিকদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রস্তুতির কথা জানান। তিনি বলেন, "শ্রমিক দুর্ঘটনা ঘটলে একজন বিচারপতি, একজন আইনজীবী, জেলা প্রশাসনের এবং পুলিশের প্রতিনিধি নিয়ে একটা টিম করে দেয়া হবে।" এই টিম দুর্ঘটনার স্থলে গিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে।
তিনি দুর্ঘটনারোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, "এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের সচেতনতার বিকল্প নেই।" প্রয়োজনে শ্রমিকদের জন্য মাসখানেক ধরে সচেতনতা প্রোগ্রাম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, "কোন শ্রমিক দুর্ঘটনা হলে তাদের কিছু টাকা দিয়ে পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন মালিকরা।" তিনি জানান, শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বক্তব্য এসেছে।
মন্ত্রী বলেন, "এ সমস্যাগুলো একদিনের নয়, দীর্ঘ সময়ের পুঞ্জিভুত সমস্যা।" চট্টগ্রামে শ্রমিক-মালিকের সমস্যাগুলো সমাধানে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে একটি কার্যকর পরিকল্পনা তৈরির কথা জানান।
অনেকগুলো কারখানা বন্ধ হয়ে আছে, সেগুলো চালুর উদ্যোগ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, "বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যারা দেশ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়েছে, তাদের কিছু কলকারখানা বন্ধ রয়েছে।"
তিনি বলেন, "এখন ব্যাংকের টাকার জন্য বিভিন্ন মিল কারখানা লে অফ করছে।" শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, "আইনের মাধ্যমে বন্ধ কারখানাগুলোকে সচল করার চেষ্টা করছি।" তিনি উল্লেখ করেন, "আপনি চাইলেই একটি প্রাইভেট প্রোপার্টির উপর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।"
মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান, সাঈদ আল নোমান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন