প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তিনি বলেন, দরপত্রে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। জ্বালানিমন্ত্রী জানান, তিনি বিদেশি কোম্পানিগুলোকে দরপত্রে অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন।
এছাড়া, তেলের ব্যবসা বেসরকারি খাতে দেয়ার প্রস্তাবও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছিলেন। তিনি এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে বলা হচ্ছে যে, এটি নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির জন্য করা হচ্ছে। তবে আইন তৈরি হলে তা কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির জন্য হবে না, বরং সব কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য হবে।
বেসরকারি খাতে তেলের ব্যবসা দেয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা ও অভিযোগের সমালোচনা করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ফেসবুকে বলা হচ্ছে, ২ লাখ কোটি টাকা নাকি তার পকেটে ঢুকছে। তিনি এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন যে, এই টাকা গুনতে কত সময় লাগবে? তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী এসব প্রচারণা চালাচ্ছে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কারও জন্যই স্বস্তির নয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে; এ সত্যটি অস্বীকার করছি না। তিনি জানান, এ সমস্যার দায় তাদের নয় এবং এজন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রয়োজনীয় জ্বালানি তারা সংস্থান করতে পারছেন না। তিনি জানান, গ্যাসভিত্তিক সব বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখা সম্ভব হলে এই সংকট তৈরি হতো না। দেশে গ্যাসের উৎপাদন কমছে এবং এলএনজি আমদানির সক্ষমতাও সীমিত।
আগামী দুই বছরের মধ্যে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল করার বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে। তিনি বলেন, তবে সরকারের স্বার্থের সঙ্গে কোনো প্রকার আপস করবে না। সরকারের বাকি সাড়ে চার বছরে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
এলপিজি দাম প্রসঙ্গে তিনি জানান, জনগণ বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাচ্ছে না। সরকার এই খাতে অংশীদারিত্ব আনতে চায় যাতে বাজার স্থিতিশীল থাকে।
সেমিনারে ব্যবসায়ী আজম জে চৌধুরী বলেন, বেসরকারি খাতকে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশে জ্বালানির খরচ বিশ্বের অন্যতম কম।
এলপি গ্যাসের দাম নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা সমালোচনা করেন আজম জে চৌধুরী। তিনি জানান, এলপি গ্যাস বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে; এ কথা সঠিক নয়। বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। তবে লেখালেখির মাধ্যমে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যে যেন সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, নতুন সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, যদি বৈপ্লবিক কিছু না করতে পারা যায়, তবে আগের সরকারের মতই ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হবে।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ প্রকল্প নিয়ে আগের সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট নীতির মাধ্যমে যারা আসছেন, তারা নিজেদের মতো করে ব্যবসা করতে চান।
অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও সক্ষমতার প্রশ্ন তুলে দেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাপেক্সের সক্ষমতা নেই বলে প্রচার হচ্ছে; তবে দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।
তিনি আরও বলেন, বড়পুকুরিয়ার কয়লা কেন ব্যবহার করা যাচ্ছে না সে প্রশ্নও এসেছে। মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন