প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন যে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাটি আওয়ামী লীগের এক ব্যবসায়ী ও সাবেক সংসদ সদস্যের প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জামায়াতের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগও করেছেন।
রবিবার (১ নভেম্বর) ফেসবুকের একটি পোস্টে এ তথ্য জানান রাশেদ খান। তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় তার কোনো বক্তব্য প্রচার না করার জন্য সম্পাদক মাহমুদুর রহমান নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। তখন তিনি তথ্য উদঘাটন করে জানতে পারেন যে পত্রিকাটি আওয়ামী লীগের এক পদধারী নেতা ও বড় ব্যবসায়ী এবং ডামি এমপির কোম্পানির অর্থায়নে চলছে।
তিনি আরও জানান, প্রথমে অবাক হয়ে মাহমুদুর রহমানকে হোয়াটসঅ্যাপে ছবি ও তথ্য-প্রমাণ পাঠান। কিন্তু তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। রাশেদ খান ভাবছিলেন, হয়তো বিষয়টি তার অজানা। তাই তিনি বারবার টেক্সট করে তথ্য-প্রমাণ পাঠিয়েছেন। কিন্তু মাহমুদুর রহমান পুরো বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং তার কল গ্রহণও বন্ধ করে দেন।
রাশেদ খান বলেন, পরবর্তীতে আমার দেশ পত্রিকার একজন দায়িত্বশীলের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, "ভাই, আমাদের তো পত্রিকা চালাতে হয়!" এবং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এই ঘটনার পর মাহমুদুর রহমানের চরিত্র তার কাছে উন্মোচিত হয়ে যায়। পত্রিকা চালানোর জন্য তিনি গণ-অভ্যুত্থানের বিরোধীপক্ষের সঙ্গে আপস করতে জানেন।
তিনি আরও জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সংক্ষুব্ধ হওয়ায় আমার দেশ পত্রিকার মিথ্যা বয়ান ছিঁড়ে ফেলেছেন। কিন্তু কিছু মিডিয়া প্রচার করছে যে তিনি ফেসবুক লাইভে আমার দেশ ছিঁড়ে ফেলেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, "আমি কোনো ফেসবুক লাইভ করিনি। আমি ফরমাল ভিডিও আকারে প্রতিবাদ পাঠিয়েছি।"
রাশেদ খান বলেন, "আমার কোনো যৌক্তিক সমালোচনা যে কেউ করতে পারে। কিন্তু একটি পত্রিকা আমাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগিং করে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে এক হয়েছি মর্মে বিভ্রান্তিমূলক লিড নিউজ করতে পারে না।" তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এমনটি করা হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, "মূলত ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের ঘটনায় মিয়া গোলাম পরওয়ারকে সেভ করতে ও জামায়াতের পক্ষে পাল্টা ন্যারেটিভ দাঁড় করাতে পরিকল্পিতভাবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে আমার এক হওয়ার অপতথ্য প্রচার করেছে আমার দেশ পত্রিকা।"
তিনি জানান, যেহেতু আমার দেশ পত্রিকা বর্তমানে জামায়াতের রাজনৈতিক মুখপাত্র হিসেবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে, তাই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের কর্মী হিসেবে সেটির জবাব না দিলে মিথ্যা বলতে বলতে একসময়ে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠা করে ফেলতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন