প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রযুক্তির জগতে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করলেও, বড় পর্দায় এর প্রথম বড় পরীক্ষা তেমন সন্তোষজনক হয়নি। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) চীনে মুক্তি পেয়েছে দেশের প্রথম সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রটির নাম ‘সানশিংদুই: ফিউচার পাস্ট’ এবং এটি এআই-এর সাহায্যে নির্মিত হয়েছে।
তবে মুক্তির শুরুতেই ছবিটি বক্স অফিসে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। টিকিট বুকিং প্ল্যাটফর্ম ‘মাওয়ানের’ তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির দিনেই ছবিটির জন্য ১০ হাজারের বেশি শো বা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ দর্শকদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে তেমন কোনো উন্মাদনা দেখা যায়নি।
শুক্রবার সকালে ছবিটির অগ্রিম টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছিল মাত্র ৮০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ১১,৯৮০ ডলার)। ছবিটির টিকিটের দাম ২০ থেকে ৯০ ইউয়ান পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও, মোটে কয়েক হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে।
ছবিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘বোনা ফিল্ম গ্রুপ’-এর প্রধান নির্বাহী জিয়াং ডেফু এক সাক্ষাৎকারে দর্শকদের এই শীতল প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি একে নতুন সীমানা অতিক্রম করার একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমরাই প্রথম এই উদ্যোগ নিয়েছি, প্রথম প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অনুমতি পেয়েছি এবং প্রথম দর্শকের পরীক্ষার মুখে পড়েছি। আমার মনে হয়, কাজটি মোটেও সহজ ছিল না।’
বোনা ফিল্ম গ্রুপের তথ্যমতে, প্রায় ১০০ জন মানুষের দুই বছরের বেশি পরিশ্রম এবং ১ কোটি ইউয়ানের (প্রায় ১৫ লাখ ডলার) বেশি খরচে তৈরি হয়েছে এই সিনেমা। তবে ছবির সব চরিত্র, তাদের কণ্ঠস্বর এবং পটভূমি—সবকিছুই তৈরি হয়েছে এআই-এর সাহায্যে। এআই-নিয়ন্ত্রিত ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে মানবতা ও মানুষের টিকে থাকার লড়াইয়ের থিম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এতে।
কিন্তু ছবিটির প্রিভিউ শো দেখে আসা আইরিস ইয়াং নামের এক দর্শক খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। প্রযোজনা দলের পরিচিত ও শিল্পসংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত ওই প্রিভিউ শো-তে অংশ নিয়ে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ছবির মান যেমন, তাতে তিনি কখনোই নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে টিকিট কাটতেন না।
তার মতে, ‘এআই প্রযুক্তির তৈরি কোনো ছবি যদি হলিউডের বিখ্যাত অ্যাভাটার সিনেমার মতো মানসম্মত ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা দিতে পারে, কেবল তখনই আমি এর জন্য অর্থ খরচ করতে রাজি হব।’
চীনের সামাজিক মাধ্যম ওয়েইবোতেও ছবিটির মুক্তি নিয়ে নেটিজেনদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘যদি এটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে বিনামূল্যে দেখার সুযোগ থাকে, তবে এটি হয়তো বেশ জনপ্রিয় হতে পারে। কিন্তু এর জন্য টাকা দিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে কে দেখবে? সাধারণ মানুষ এই মুহূর্তে বিষয়টি সহজে মেনে নেবে না।’
এদিকে শুধু চীনেই নয়, হলিউডেও চলচ্চিত্র অঙ্গনে এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার কর্মীদের মধ্যে চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি করেছে। আগামী ০৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ‘গডস ডোন্ট গিভ গিফটস’ নামের আরেকটি এআই-নির্মিত সাইন্স ফিকশন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
এ ছাড়া টিলি নরউড নামের এক ভার্চুয়াল হলিউড অভিনেত্রীও খুব শিগগির ‘মিসঅ্যালাইনড’ নামের একটি আসন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন, যা ইতোমধ্যে বিনোদন দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং চলচ্চিত্রকর্মীদের চাকরি হারানোর ভয়কে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন