প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিলিপাইনে আয়োজিত আসিয়ান সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ও সেখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে ইরানের যে দাবি, তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে তেহরানের ব্যাখ্যাকেও ভিত্তিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আসিয়ান সম্মেলনের এই বক্তব্যের পর কাতারস্থ জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অবস্থানের বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, 'রুবিওর বক্তব্যটি ছিল অত্যন্ত বাকপটু, তবে তা কিছুটা গতানুগতিক বা নিস্তেজ শোনাক না কেন—এর কূটনৈতিক গুরুত্ব অনেক।' কাতার ও পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এড়াতে জোরালো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান শান্তি আলোচনাকে কঠিন করে তুলছে।
পল মাসগ্রেভ উল্লেখ করেন, 'সবাই চায় আন্তর্জাতিক কূটনীতি সফল হোক এবং শান্তি ফিরে আসুক।' তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য হলো—ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আস্থা নেই। মার্কিন প্রশাসন মনে করে, তেহরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি হলেও শেষ পর্যন্ত তারা তা মেনে চলবে কিংবা চুক্তি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া অসম্ভব।
তিনি আরও যোগ করেন, একদিকে বিশ্ব সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীরা যখন কূটনীতির পথ সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে, অন্য দিকে ওয়াশিংটন থেকে একের পর এক বিরূপ মন্তব্য ও বানোয়াট অভিযোগ ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে।
একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মাসগ্রেভ জানান যে, আন্তর্জাতিক এসব জটিল ইস্যুতে সাধারণত তিনি খুব একটা আশাবাদী হতে পারেন না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর এমন বক্তব্যের পর বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে তার সংশয় ও আশঙ্কাই যেন আরও ঘনীভূত হলো।
সূত্র: আল-জাজিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন