প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের সামরিক হামলা আবার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে— এমন ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে। তবে তারা মনে করছেন, এই ভয়াবহ সংঘাতের সামরিক সমাধান কোনো পক্ষের জন্যই সম্ভব হবে না।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে জড়িয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ কার্যকর রাখতে চাচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে কোনো পক্ষই স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা চালায়নি। তবে শিগগিরই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের পররাষ্ট্রনীতি কর্মসূচির পরিচালক সুজান ম্যালোনি মন্তব্য করেন, ‘এখন আমার ধারণা, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই হামলা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।’
মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি হামলার সম্ভাবনার পক্ষে কয়েকটি ইঙ্গিত তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে— মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা মোতায়েন, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি এবং ইসরাইলি বাহিনীকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা।
ম্যালোনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন না।
তার ভাষায়, ‘এখন হামলা চালালে নির্বাচনে তার লাভ হবে বলে মনে হয় না।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ দেশটিতে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এই যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ফলে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ম্যালোনি বলেন, ‘মৌলিকভাবে বর্তমান পরিস্থিতি এভাবে চলতে পারে না।’
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে অবরোধ কার্যকর রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুলসংখ্যক নৌবাহিনীর জাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ ব্যস্ত রাখতে হচ্ছে।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান কোনো চুক্তিতে না এলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ‘একটু এপিক ফিউরি’ অভিযান চালাতে পারে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা মার্কিন সামরিক অভিযানের নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’।
তবে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে তিনি কোনো ইঙ্গিত দেননি।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক জেসন ক্যাম্পবেল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু লক্ষণ দেখা গেছে, যা থেকে ধারণা করা যায়, যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এমনও হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করছে যে ইরান কিংবা ইয়েমেনভিত্তিক তাদের মিত্র হুতিরা নতুন করে হামলা চালাতে পারে।
ক্যাম্পবেল মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। এটি সেখানে পৌঁছালে সাময়িকভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরির নেতৃত্বাধীন আক্রমণকারী বহরের সংখ্যা তিনটিতে উন্নীত হতে পারে। এ ছাড়া ওই অঞ্চলে আরও একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট পাঠানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের বিরুদ্ধে আগের হামলাগুলোর অনুরূপ কৌশলে শক্তি প্রদর্শন করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরায়েল সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তবে নতুন করে হামলা কখন শুরু হতে পারে, সে বিষয়ে ক্যাম্পবেল বলেন, ‘এখানে সময় নির্ধারণ করা অসম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে শুধু চাপ সৃষ্টি করাই যদি উদ্দেশ্য হয়, তাহলে এ ধরনের ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ক্যাম্পবেলের মতে, যুদ্ধের আগের পর্যায়ের তুলনায় এখন ট্রাম্পের সামরিক বিকল্প সীমিত হয়ে এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সম্ভাব্য স্থল অভিযান পরিচালনা করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ম্যালোনি বলেন, ইরানের অধিকাংশ প্রচলিত সামরিক স্থাপনা আগের হামলাগুলোতেই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন সামরিক অভিযান চালানো হলে তা আরও বেশি করে বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে— এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দিকে গড়াতে পারে।
তবে তার মতে, এ ধরনের হামলা কিংবা অন্য কোনো সামরিক পদক্ষেপই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান আনতে পারবে না।
ম্যালোনি বলেন, ‘শুরু থেকেই এটি এমন একটি যুদ্ধ, যা কোনো পক্ষেরই আরও সংঘাত বাড়ানোর মাধ্যমে শেষ করা সম্ভব নয়।’
ক্যাম্পবেলও একই ধরনের মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের প্রথম ৫০ দিনের মতো আবারও ইরানে হামলা চালালে দেশটির শাসকগোষ্ঠীর কৌশলগত অবস্থানে কীভাবে পরিবর্তন আসবে, তা আমি দেখতে পাচ্ছি না।’
তিনি আরও বলেন, ইরান ইতোমধ্যেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কিংবা বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলেও দেশটির অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে— এমন সম্ভাবনা কম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন