প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় এলাকার মুসল্লীরা ইমামকে রাজকীয়ভাবে ফুলসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে সম্মান জানালেন।
দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে ইমামতি, খুতবা, দ্বীনি শিক্ষা ও সামাজিক নেতৃত্ব দিয়ে তিনি এলাকার মানুষের অভিভাবক হয়ে উঠেছিলেন। এবারে বয়সের কারণে তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিদায়ের মুহূর্তে প্রিয় ইমাম শামসুল হককে রাজকীয়ভাবে ফুলসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। এই আবেগঘন আয়োজনে গ্রামের মানুষ অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর তাঁকে বিদায় দেওয়া হয়।
বিদায় নেওয়া ইমাম মাওলানা শামসুল হক মিয়াজী (৯৫) ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের মধ্যম শিলুয়া চৌধুরী বাড়ি রৌশআরা বেগম চৌধুরানী জামে মসজিদে ইমামতি করতেন।
মাওলানা শামসুল হক মিয়াজী মধ্যম শিলুয়া গ্রামের মিয়াজি বাড়ির মরহুম এবাদুল্লাহ মিয়াজী মোল্লার ছেলে। ১৯৭৬ সাল থেকে ৫০ বছর ধরে তিনি শিলুয়া চৌধুরী বাড়ি রৌশআরা বেগম চৌধুরানী জামে মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে মসজিদ পরিচালনা কমিটি এবং এলাকাবাসী তার সম্মানে বিশেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এর আগে খতিব শামসুল হক মিয়াজির বাবা এবাদুল্লাহ মিয়াজি ৮১ বছর এবং তার দাদা হামিদ উল্যাহ মিয়াজি ৬০ বছর ধরে এই মসজিদে খতিব ও ইমামের দায়িত্ব পালন করেছেন। জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে ফুল দিয়ে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে তাকে মধ্যম শিলুয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়িটির পেছনে দেখা যায় শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণরা সালাম, শুভেচ্ছা ও দোয়ার মাধ্যমে প্রিয় ইমামকে বিদায় জানান। এ সময় অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু।
অনুষ্ঠানে ইমাম মাওলানা শামসুল হক মিয়াজীকে দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতিস্বরূপ নগদ ৩ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া ঘোষণা দেওয়া হয় আগামী এক বছরের বেতন, আজীবন পেনশন ও আমৃত্যু যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে চৌধুরী বাড়ি।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান চৌধুরী বলেন, ‘ইমাম সাহেব আমাদের কাছে শুধু একজন ইমাম নন, তিনি ছিলেন অভিভাবক। পাঁচ দশক ধরে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। তার অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এ সম্মানজনক বিদায়ের আয়োজন করা হয়েছে।’
বিদায়ের আগে আবেগঘন কণ্ঠে মাওলানা শামসুল হক মিয়াজী বলেন, ‘জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় এ মসজিদ ও এলাকার মানুষের সঙ্গে কেটেছে। সারা জীবন আল্লাহর দ্বীনের খেদমত করার চেষ্টা করেছি। আমার বাবা ও দাদাও এ মসজিদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার বাবার নির্দেশে এক মসজিদেই জীবন পার করেছি। দায়িত্বের কারণে নিজের অনেক শখ-আহ্লাদ কুরবান দিয়েছি। আজ বিদায় বেলায় মানুষের এত ভালোবাসা ও সম্মান পেয়ে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’
মসজিদ কমিটির সভাপতি চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী আলমগীর বলেন, ‘মাওলানা শামসুল হক মিয়াজী দীর্ঘ ৫০ বছর আমাদের এ মসজিদের খেদমত করে গেছেন। শুধু তাই নয় পূর্ব পুরুষেরাও এ মসজিদের দেখভাল করেছেন। উনার বার্ধক্যজনিত কারণে এ বিদায়। তবে চৌধুরী বাড়ীর লোকজন উনার আমৃত্যু পর্যন্ত দেখাশোনা করে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন