প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে ছাত্রদল পরিচয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কা, হেনস্তা ও হুমকি প্রদান সহ দুইশতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে একটি দল আর্জেন্টিনার সমর্থকদের। এসময় বাধা দিতে গিয়ে প্রধান ফটকে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা আহত হন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় ক্যাম্পাসে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরের মধ্যে একটি শোডাউন দেন। প্রধান ফটকে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীদের ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে বাধা দিলে তারা ‘তুলে নিয়ে যাবে’ বলেও হুমকি প্রদান করে। ওই সময় প্রধান ফটকে দায়িত্বরত ইব্রাহিম ও সাইদুল নামের দুই আনসার সদস্য ছিলেন। প্রথম দিকেই আটকানোর চেষ্টা করলেও তারা (নিরাপত্তা কর্মী) ধাক্কা ও প্রাণের আতঙ্কে পিছু হটে যায়।
জানা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা ছাত্রদলের নেতা সাইদুর রহমান মিঠু এবং শৈলকূপা পৌর ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক রকিবুজ্জামান রকির নেতৃত্বে নিরাপত্তাকর্মীদের ধস্তাধস্তি ও হুমকি প্রদান করা হয়। পরে তারা জোরপূর্বক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক খুলে স্থানীয় আর্জেন্টাইন জার্সি পরিহিতরা বিকট শব্দের বাইক-মাইক, সাউন্ডবক্স ও পিক-আপ নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। ওই সময় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করতে দেখা যায় এবং তাদের মধ্যে কিছু বলতে শোনা যায়— “গেট খুলবে না মানে কিসের প্রক্টর, কিসের ভিসি...”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শিক্ষার্থী জানান, “বাস থেকে নেমে দেখতেছি যে এখানে অনেক ভীড়। ছোট ট্রাকসহ একশোর ওপর বাইক। এটা বোঝা যাচ্ছে যে তারা ক্যাম্পাসে ঢুকবে এবং ইতোমধ্যে একটা গ্রুপ আনসারদের ধাক্কা দিয়ে ঢুকে পড়েছে। আমি অন্য একজন সিনিয়র ভাইয়ের সহযোগিতায় প্রধান ফটক আটকে দিই। ওই সময় একজন ছাত্রনেতার পরিচয় দিয়ে বলল যে, আমরা এখানকার এক্স স্টুডেন্ট আমাদের ঢুকতে হবে, মিছিল করতে হবে, সর।”
দায়িত্বরত আনসার সদস্য বললেন, প্রথমে একজন মোটরসাইকেলে এসে বললেন যে ‘লোক আসলে গেটটা খোলা রাখবেন’। তখন আমরা আশরাফ-ফরিদ (নিরাপত্তা কর্মী) সাথে প্রক্টর স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি “ক্যাম্পাসে কেউ ঢুকবে না” বলে নির্দেশ দেন। তখন আমরা কঠোরভাবে দরজার সামনে নিরাপত্তা দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আমাদের ওপর উগ্র মেজাজে কথা বলতে বলতে ধাক্কা দিয়ে গেট খুলে জোর করে ঢুকে পড়ে। ধাক্কাধাক্কিতে আঘাত লাগলে এবং প্রাণের ভয়ে হুমকি দিলে আমরা সরে দাঁড়াই।
প্রক্টর অফিসের নিরাপত্তা সেলের কর্মকর্তা আশরাফুল বলেন, আমি প্রথমে ছিলাম না। পরে ঘটনা জানতে পেরে উপস্থিত হয়েছি। এখানে আসার আগে ছাত্রদলের একজন নেতা আনসারদের বলে দিয়েছিল যে গেট খোলা রাখতে। প্রক্টর স্যারের নির্দেশনায় তারা গেট দিয়ে ঢুকতে না দিলে উগ্র মেজাজে ‘ধরে বেধে নিয়ে যাবে’ বলায় হুমকি দেয় তারা।
দায়িত্বরত আনসার সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, এক ছাত্রদলের নেতা প্রথমে গেইট খুলে দিতে বলা ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করলেও ছবি দেখালে ইবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য রাফিজ আহমেদকে ইঙ্গিত করেন নিরাপত্তা কর্মীরা। তবে রাফিজের দাবি— তিনি ভিন্ন দুই পার্সোনাল গেস্টের কথা বলছিলেন। মিছিলের ব্যাপারে তার কাছে কোনো ধারণা নেই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শৈলকূপা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিঠুকে একাধিক মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, “ফোনে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়ে আমার কাছ থেকে অনুমতি নিতে চাইলে আমি ডিরেক্ট কড়াকড়ি নির্দেশনা দিয়েছি। ঘটনার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতেছি।”
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (রুটিন ভিসি) অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, “ঘটনার পর তারা কয়েকজন কল দিয়ে ক্ষমা চেয়েছে এবং অনুতপ্ত। মিছিলে কিছু প্রাক্তন ইবিয়ানও ছিলেন বলে দাবি করছে তারা। তারা যদি ঘটনার আগে জানান দিতেন তবে নিরাপত্তা কর্মীরা এলার্ট থাকতো। আমরা নীতির প্রশ্নে আপসহীন।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন