প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ পদায়ন নিয়ে আবারও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। দীর্ঘ প্রায় আট বছর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলী নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র একদিন পরই, ১ অক্টোবর তাঁর বদলি ও পদায়নের আদেশ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে পদায়ন বাতিলের কারণ হিসেবে শুধু ‘প্রশাসনিক কারণে’ উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর পূর্বধলা সরকারি কলেজকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—একজন কর্মকর্তাকে অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করার পর তিনি মাউশিতে যোগদান করলেন, কলেজে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বও নিলেন; তাহলে মাত্র একদিন পরই কেন তাঁর পদায়ন বাতিল হলো?
দীর্ঘ আট বছর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে রতন
পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজ ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ৮ আগস্ট ২০১৮ কলেজটি জাতীয়করণ হয়ে পূর্বধলা সরকারি কলেজে রূপ নেয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাতীয়করণের পর ১০ আগস্ট ২০১৮ থেকে কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক রতন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ফলে প্রায় আট বছর পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ ছাড়াই কলেজটির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
২০২৫ সালে বাহারুল ইসলামের ঘটনাও আলোচনায়
এর আগে ১৫ এপ্রিল ২০২৫ আনন্দমোহন সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. বাহারুল ইসলামকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদে পদায়ন করা হয়েছিল।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওইদিন সকালে তিনি পূর্বধলা সরকারি কলেজে এসে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। পরে একই দিন দুপুরে তাঁকে বিদায় জানানো হয়। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেটি ছিল তাঁর চাকরিজীবনের শেষ দিন এবং প্রায় তিন ঘণ্টা পূর্বধলা সরকারি কলেজে অবস্থানের পর তিনি অবসরে চলে যান।
ফলে অধ্যাপক বাহারুল ইসলামের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
২০২৬ সালে আবার নতুন অধ্যক্ষ
দীর্ঘ বিরতির পর ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে নেত্রকোনা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) যোগদান করেন।
এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, বেলা আড়াইটার দিকে পূর্বধলা সরকারি কলেজে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক আকবর আলী। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে তিনি শিক্ষক-কর্মচারী, সাংবাদিক ও ছাত্রনেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময় করেন।
তবে এই দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই ঘটে নতুন মোড়।
একদিন পরই পদায়ন বাতিল
১ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে বদলি ও পদায়নের আদেশের সংশ্লিষ্ট অংশ ‘প্রশাসনিক কারণে’ বাতিল করা হয়।
তবে প্রজ্ঞাপনে ‘প্রশাসনিক কারণ’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন
আকবর আলীর পদায়ন বাতিলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা আনোয়ারুল হক রতনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আবার কেউ কেউ অধ্যাপক আকবর আলীর অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন দাবি করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে তাঁকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি বা যাচাইযোগ্য সূত্র পাওয়া না গেলে তা সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না। একইভাবে আকবর আলীর পদায়ন বাতিলের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কোনো ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক ভূমিকা ছিল—এমন দাবিরও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তাহলে ‘প্রশাসনিক কারণ’ কী?
এখন মূল প্রশ্ন—ঠিক কী কারণে ৩০ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়া একজন অধ্যক্ষের পদায়ন ১ অক্টোবর বাতিল করা হলো?
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এর উত্তর হিসেবে শুধু ‘প্রশাসনিক কারণে’ বলা হয়েছে। বিস্তারিত কারণ প্রকাশ না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হলেও সেগুলোকে এখনই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি পরিষ্কার করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
একই কলেজে ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল অধ্যাপক বাহারুল ইসলামের স্বল্পস্থায়ী পদায়ন এবং ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আকবর আলীর দায়িত্ব গ্রহণের পর ১ অক্টোবর পদায়ন বাতিল—দুটি ঘটনাই পূর্বধলা সরকারি কলেজের প্রশাসনিক নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—গুঞ্জন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা নয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করবে এবং পূর্বধলা সরকারি কলেজের প্রশাসনিক নেতৃত্ব নিয়ে একটি স্থায়ী ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন