প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া পরিশোধের দাবিতে টানা শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখান এলাকায় কর্তৃপক্ষ পাঁচটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী ‘কাজ নাই, বেতন নাই’ নীতির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর পক্ষ থেকে পৃথক নোটিশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বন্ধ ঘোষিত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো ভার্সাটাইল অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড, এমব্রেলা লিমিটেড, নাইস অ্যাপারেলস ইন্ডাস লিমিটেড, ড্যাজলিং ড্রেসেস লিমিটেড এবং ওলিও অ্যাপারেলস লিমিটেড।
কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়েছে, ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত কিছু শ্রমিকের বিরুদ্ধে বেআইনি ধর্মঘট পালন, কাজে যোগ না দেওয়া এবং কর্মস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
দক্ষিণখানের চালাবন এলাকায় অবস্থিত নাইস অ্যাপারেলসের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু শ্রমিক কারখানার মূল ফটকে বাধা সৃষ্টি করেছেন এবং অন্য শ্রমিকদের কাজে যোগদানে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন।
অন্যদিকে, ওলিও অ্যাপারেলস কর্তৃপক্ষ জানায়, শ্রমিকদের কাজে ফেরানোর এবং সমঝোতার চেষ্টা সত্ত্বেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
এই অবস্থায় নিরাপত্তা বিভাগ ছাড়া কারখানাগুলোর অন্যান্য কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী নোটিশের মাধ্যমে কার্যক্রম পুনরায় শুরুর সময় জানানো হবে।
এর আগে ১২ অক্টোবর (সোমবার) থেকে ন্যূনতম মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবিতে উত্তরার আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় আন্দোলন শুরু করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা এবং সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বারবার দাবি জানানোর পরও সমাধান না হওয়ায় সড়কে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
এদিকে, বৃহস্পতিবারও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আজমপুর এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। এতে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী, বেআইনি ধর্মঘটের কারণে কোনও কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হলে ধর্মঘটে অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা বন্ধকালীন সময়ের মজুরি পাবেন না। তবে যেসব শ্রমিক ধর্মঘটে অংশ নেননি, তাঁদের মজুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করার সুযোগ এই ধারায় নেই। তাঁদের ক্ষেত্রে আইনের অন্যান্য প্রযোজ্য বিধান অনুসরণ করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন