প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ওয়াশিংটনে তিন দিনের জমকালো রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করেছেন।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কিত যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি বা ঝুঁকি এড়াতে একটি বিশেষ ‘যোগাযোগ মাধ্যম’ বা চ্যানেল খুলতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। এই বড় ঘোষণা ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকের পর আসে।
বৈঠকে প্রযুক্তি ও বাণিজ্যসহ ইরানের স্থবির যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতা খোলামেলা আলোচনা করেছেন। বৈঠকের পর তারা জানিয়েছেন, চলতি বছর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তারা আরও দুই দফা বৈঠকে মিলিত হবেন। তবে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে আনুষ্ঠানিকতা ও জাঁকজমক থাকলেও বড় ধরনের কোনো যুগান্তকারী অগ্রগতি দেখা যায়নি।
আলোচনার অংশ হিসেবে, আগামী নভেম্বরে শেষ হতে যাওয়া বাণিজ্য চুক্তির সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে, যাতে দুই দেশ আলোচনার জন্য আরও কিছুটা সময় পায়। সফর শেষে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এই বৈঠক সি চিন পিংয়ের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে সুফল বয়ে আনবে। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সুস্থ প্রতিযোগিতা’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও তা সঠিকভাবে পরিচালনার দায়িত্ব দুই পরাশক্তিরই রয়েছে।
বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মোকাবিলা করার জন্য ট্রাম্পকে তাগিদ দিয়েছেন সি চিন পিং। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন ও কোরিয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে আগামী দুই বছরে অন্তত ১ কোটি মেট্রিক টন মার্কিন কয়লা আমদানি করবে চীন এবং তিন হাজার কোটি ডলারের অসংবেদনশীল পণ্যে শুল্ক সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়া, উপহার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিড়িয়াখানায় দুটি পান্ডা পাঠানোর কথাও রয়েছে।
সফরে রাজনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ভোজসভা, সামরিক কুচকাওয়াজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দলিলপত্র দেখার সুযোগও ছিল। ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বয়স মাত্র আড়াই শ বছর হলেও চীনের ইতিহাস প্রায় ছয় হাজার বছরের পুরনো।
সব মিলিয়ে, এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো দুই দেশের মধ্যে আলোচনার দরজা খোলা রাখা। আগামী নভেম্বরে চীনের শেনজেনে এপেকের শীর্ষ সম্মেলন এবং ডিসেম্বরে মিয়ামিতে জি-২০ সম্মেলনে আবারও মুখোমুখি বসবেন এই দুই বিশ্বনেতা।
সূত্র: আল-জাজিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন