প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের তেলেঙ্গানার নিজামাবাদে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ধারণা করছে, বোন হত্যার প্রতিশোধ নিতে তার ভাই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিকাল ৫টার দিকে চিত্তারি হরিবাবু নামক ওই ব্যক্তি রাস্তার পাশের একটি খাবারের দোকানের কাছে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিন থেকে চারজন একটি গাড়িতে এসে সেখানে উপস্থিত হয়। তাদের মধ্যে একজন গাড়ি থেকে নেমে হরিবাবুকে অনুসরণ করে এবং নারকেল কাটার ছুরি দিয়ে তার মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই মারা যান ২৬ বছর বয়সী হরিবাবু। পরে তার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিজামাবাদের সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হরিবাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি তার স্ত্রী এবং ইউটিউবার গান্ধাম বৈষ্ণবীকে হত্যা করেছেন। চলতি বছরের ১৭ মার্চ জাগতিয়াল জেলায় নিজ বাড়িতে বৈষ্ণবীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই সময় তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
বৈষ্ণবীর পরিবারের অভিযোগ ছিল যে, অতিরিক্ত যৌতুকের দাবিতে তাকে নির্যাতন করা হতো। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ হরিবাবুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে তাকে গ্রেফতার করা হলেও চলতি বছরের জুলাই মাসে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
পুলিশের ধারণা, বৈষ্ণবীর ভাই সন্তোষই হরিবাবুকে হত্যার পেছনে ছিলেন। সন্তোষের একটি সেলফি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। তবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ।
ভিডিওতে সন্তোষকে বলতে শোনা যায়, “যে ব্যক্তি আমার বোনকে হত্যা করেছে, আমি তাকে হত্যা করেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, তিনি সরকারের কাছ থেকে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু তার মতে, এ ঘটনায় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সন্তোষের দাবি, অন্য একটি কাজে যাওয়ার সময় নিজামাবাদে হরিবাবুর সঙ্গে তার দেখা হয়। তাকে চিনতে পেরে তিনি হামলা চালান। নিজের নিরাপত্তার জন্য তিনি অস্ত্র বহন করতেন বলেও ভিডিওতে দাবি করেন।
ভিডিওতে সন্তোষ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার কথাও জানান। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড এড়াতে তাকে সহযোগিতা করার জন্য সবার কাছে আবেদন করেন। তিনি বলেন, তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে এবং তাকে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সহযোগিতা করা হোক।
তবে ভিডিওতে সন্তোষের করা এসব দাবি এখনো পুলিশি তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
বৈষ্ণবী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এর আগে তেলেঙ্গানায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। এবার সেই মামলার আসামি হরিবাবু প্রকাশ্যে হত্যার শিকার হওয়ায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে প্রকাশ্যে হরিবাবুকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন