প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সৌদি আরবে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনীর সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে। এই পরিস্থিতিতে, জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন এমন মার্কিন সরকারি কর্মী এবং তাদের সঙ্গে যাওয়ার যোগ্য পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, দেশটির বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাদের বাহিনী রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো, তেল শোধনাগারসহ বেশ কয়েকটি বিমান চলাচল ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই মার্কিন কর্মীদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করেছে, হুতি বাহিনীর ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে। এটি সৌদি রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি বিন সালেহ আল-মালিকি বলেন, ‘সন্ত্রাসী হুতি বাহিনীর রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।’
এক্সে প্রকাশিত নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে চলা এই সংঘাতের কারণে পুরো অঞ্চলে আরো বড় আকারে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন দূতাবাস জানায়, ‘২৩ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকরভাবে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন মার্কিন সরকারি কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।’
দূতাবাস আরো জানায়, ‘ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলাও রয়েছে। এতে বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং যাতায়াতব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।’
পরিস্থিতি কতটা অস্থিতিশীল, তা তুলে ধরে দূতাবাস জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া এখন মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীদের দেশের ভেতরে বিমানপথে যাতায়াত করতে দেওয়া হচ্ছে না।
নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘এই সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তাৎক্ষণিক সংঘাতপূর্ণ এলাকার বাইরেও পৌঁছাতে পারে। সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোন হামলার পর দেশটিতে কর্মরত মার্কিন সরকারি কর্মীদের যেকোনো বিমানবন্দর ব্যবহারের আগে মিশনপ্রধানের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।’
সৌদি আরবের প্রধান বিমানবন্দরগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। সতর্কবার্তায় বলা হয়, ‘রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২৫ অক্টোবর থেকে আংশিকভাবে চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। সেখান থেকে অভ্যন্তরীণ এবং জাতীয় বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালিত কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলবে। সাধারণত কিং খালিদ বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত সীমিতসংখ্যক ফ্লাইট এখন কাসিমে অবস্থিত প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত হচ্ছে।’
দূতাবাস আরো জানিয়েছে, জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে এসব বিমানবন্দরে কিছু ফ্লাইট দেরিতে ছাড়তে পারে এবং কিছু ফ্লাইট বাতিলও হতে পারে। সৌদি আরবে বসবাসরত বা দেশটির মধ্য দিয়ে যাতায়াতকারী মার্কিন নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন মিশন।
দূতাবাসের পরামর্শে বলা হয়েছে, ‘মার্কিন নাগরিকদের বিমানবন্দরে সম্ভাব্য হামলা, আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। সৌদি আরবের কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিলে অত্যন্ত সতর্ক থাকুন। আপনার ফ্লাইট ছাড়ার সময় ও অবস্থা সরাসরি বিমান সংস্থা এবং বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন