প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সকল মামলায় জামিনে মুক্তির পর নিজ বাড়িতে ফিরেছেন।
তিনি বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চুনকা কুটিরে ফিরে আসেন। ফেরার পর আইভী সরকারের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার জানিয়েছেন, তিনি জামিনের কাগজপত্র সন্ধ্যায় পৌঁছানোর পর তা যাচাইয়ের পরে রাত ১০টা ৮ মিনিটে আইভীকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে আইভীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় দায়ের করা ১২টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগেও বহাল থাকায়, তাকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে আর কোন বাধা ছিল না। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি কারাগার ত্যাগ করেন।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) জান্নাত উল ফরহাদ বলেন, হাইকোর্টের ক্রিমিনাল মিস নং-১৩৪১২/২৬ এবং নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের স্মারক নং-৭৭৩ অনুযায়ী জামিনের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের স্মারক নং-১৪৫৭ অনুযায়ী জেলার নয়টি মামলায় তার জামিন নিশ্চিত করা হয়েছিল। অন্য কোনো আটকাদেশ না থাকায়, আইভীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কারা সূত্র জানাচ্ছে, ২০২৫ সালের ৯ মে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পর আইভীকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়েছিল।
আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন জানান, মামলাগুলো ভিত্তিহীন এবং তার মক্কেল এক বছরের বেশী সময় কারাবন্দি ছিলেন। হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার জজ আদালতে স্থগিতের আবেদন করলেও, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখায় মুক্তির পথে বাধা দূর হয়।
তিনি আরো বলেন, আইভী আইনগত লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।
চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ পৃথক ১০ মামলায় গত ১০ মে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগ বহাল রাখে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ওই আদেশ দেয়। এর আগে ৩০ এপ্রিল দুটি মামলায়ও হাইকোর্ট জামিন দেন, যা ১৭ মে চেম্বার আদালত বহাল রাখে।
দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইভী হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। গত ২৬ এপ্রিল প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করে। রুলে হয়রানি ও অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে বারবার মামলায় জড়ানো কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে নির্দেশ দেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়।
চব্বিশের আন্দোলন সংশ্লিষ্ট পৃথক পাঁচ মামলায় জামিন বিষয়ে রুল যথাযথভাবে ঘোষণা করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিচারপতি এএসএম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন প্রদান করেন। ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে চেম্বার আদালত তা স্থগিত করে এবং নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠায়। পাঁচ মামলার মধ্যে তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলা ছিল। ১৮ নভেম্বর আরো পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ পাঁচ মামলায় ২৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন প্রদান করেন।
পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা ও পারভেজ হত্যা মামলা। অন্যটি সদর মডেল থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ৫ মার্চ চেম্বার আদালত হাইকোর্টের জামিনাদেশ স্থগিত করে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠায়। পরবর্তী শুনানিতে আপিল বিভাগ সবগুলো মামলায় জামিন বহাল রাখে।
২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন